দীপাবলি ও কালীপুজোর প্রাক্কালে কলকাতার কালঘাট এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে ঘটা সংঘর্ষ এবং উত্তেজনার জেরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনার পরেই সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট ‘গুণ্ডাবাহিনী’ বা ‘গ্যাং অব থাগস’ পরিকল্পিতভাবে এলাকায় এসে ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো ও উৎসবের উদযাপনে বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন দীপাবলির ঠিক আগের রাতে বা মধ্যরাতে অভিষেকের বাড়ির চত্বরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত ও স্থানীয় উৎসব পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, এই জমকালো উদযাপনের সময়েই স্থানীয় স্তরে বিজেপি আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী অতর্কিত আক্রমণ চালায় এবং সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন যে, ঠিক উৎসবের প্রাক্কালে কেন এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে? তাঁর দাবি, ঐতিহ্যশালী পুজো ও স্থানীয় ক্লাবগুলির স্বাভাবিক কার্যকলাপে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা আরও বলেন, যদি তাদের ক্ষমতা থাকে তবে যেন সাধারণ মানুষের ওপর বুলডোজার চালানোর আগে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পদ্ম শিবিরের পালটা দাবি, তৃণমূল নেতৃত্ব নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং সহানুভূতি কুড়াতে এই ধরনের কাল্পনিক নাটকের অবতারণা করছে। তবে এই মধ্যরাতের সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক সংঘাতে উৎসবের মরসুমেও কলকাতার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।