সম্প্রতি বাংলাদেশে মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষক ও আলেমদের যৌন নিপীড়ন, শত শত শিশু ধর্ষণ ও হত্যার খবর আমাদের সকলকে ভীষণ উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নিশ্চয়ই ভারত,পাকিস্তান ও আফগানস্থানের শিশুরাও এমন বর্বর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী বা নিম্ন আয়ের মানুষ এই আতঙ্কে দিশেহারা। তবে সামাজিক প্রতিরোধও দেখা যাচ্ছে অল্প পরিসরে কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজ তার সঠিক বিচার দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। তাই বিরাট এক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ কোন অন্ধকারের দিকে ?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যখন মানবসভ্যতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, কৃষি ও কর্মসংস্থানের প্রচলিত ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে, তখন দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় জনগোষ্ঠীর শিক্ষাজীবনে আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জীবনমুখী জ্ঞানের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার আর সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহু মানুষের জীবন ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষার নামে যদি শিক্ষার্থীদের বিরাট একটি অংশ আধুনিক বিজ্ঞান, ইতিহাস, মুক্তচিন্তা, নাগরিক অধিকার ও কর্মমুখী দক্ষতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে তার পরিণতি শুধু ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা প্রভাব ফেলবে অর্থনীতি, সামাজিক সম্প্রীতি, নারী-পুরুষের সমতা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের ওপরও।

প্রশ্ন ধর্মবিশ্বাসের নয়। প্রশ্ন শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে। শিক্ষা কি মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখাবে, নাকি প্রশ্নহীন আনুগত্যে অভ্যস্ত করবে? শিক্ষা কি মানুষের সামনে পৃথিবীকে জানার অসংখ্য দরজা খুলে দেবে, নাকি তাকে একটি সংকীর্ণ মতাদর্শের বৃত্তে আটকে রাখবে।

ভারতবর্ষে ইসলামি শিক্ষার ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরোনো। একাদশ শতক থেকে সিন্ধু ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামি শিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পরম্পরার বিকাশ ঘটে। দ্বাদশ শতক থেকে দিল্লি সালতানাতের সময় মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার আরও সুস্পষ্ট হয়। পরবর্তী সময়ে দিল্লি সালতানাত ও মুঘল আমলে শাসক, অভিজাত ও ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তায় বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে।

তবে আজকের মাদ্রাসাব্যবস্থাকে মধ্যযুগের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবিকল ধারাবাহিকতা মনে করা ভুল হবে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আগে বহু মাদ্রাসায় ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, ভাষা, গণিত ও অন্যান্য জ্ঞানচর্চার সুযোগ ছিল। ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও শিক্ষার কাঠামো বদলে যাওয়ায় মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্রেও পরিবর্তন আসে। ১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে। মূলত সেখান থেকেই জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশকে অন্ধকারের পথে হাঁটাতে সফল হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ।

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত অবস্থান আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ১৮৬৬ সালে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে দারুল উলুম প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় জ্ঞান সংরক্ষণ, আলেম তৈরি এবং ঔপনিবেশিক পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় পরিচয়কে টিকিয়ে রাখা। ১৮৯৪ সালে লখনউয়ে নদওয়াতুল উলামা প্রতিষ্ঠাসহ পরবর্তী সময়ে আরও বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। অন্যদিকে, স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলিগড় আন্দোলন আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে।

এই ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়: আধুনিক মাদ্রাসাব্যবস্থা কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের ফল নয়; ঔপনিবেশিক শাসন, সামাজিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক আত্মপরিচয় এবং শিক্ষানীতির দ্বন্দ্বও এর বিকাশকে প্রভাবিত করেছে।

কিন্তু ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে চিরস্থায়ী শিক্ষাদর্শে পরিণত করা যায় না। ঊনবিংশ শতকে যে শিক্ষাব্যবস্থা একটি বিশেষ ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে গড়ে উঠেছিল, একবিংশ শতকের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে সেটিকে অপরিবর্তিত রেখে কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

ভারতবর্ষের ধর্মীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গেলে একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে। বিভিন্ন সময়ে আলেম সমাজের প্রভাবশালী অংশ আধুনিক শিক্ষার কিছু ধারা, সামাজিক সংস্কার, নারী-স্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি এবং ধর্মীয় আইনের বাইরে নাগরিক সমতার ধারণার বিরোধিতা করেছে। কোথাও এই বিরোধিতা এসেছে ধর্মীয় কর্তৃত্ব হারানোর আশঙ্কা থেকে, কোথাও ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া থেকে, আবার কোথাও এসেছে ধর্মকে রাষ্ট্রক্ষমতার ভিত্তি করার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকে।

উনিশ শতকে আধুনিক শিক্ষার বিস্তার নিয়ে মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরেই মতবিরোধ ছিল। স্যার সৈয়দ আহমদ খান আধুনিক বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার পক্ষে অবস্থান নেন; কিন্তু তাঁর শিক্ষাসংস্কারের উদ্যোগের বিরোধিতাও হয়েছিল। এই সংঘাতের পেছনে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি অবিশ্বাস এবং সামাজিক পরিচয় হারানোর আশঙ্কা—সবই কাজ করেছিল।

পরবর্তী সময়েও নারীশিক্ষা, পোশাক, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষ আইন এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ধর্মীয় রক্ষণশীল গোষ্ঠী আপত্তি তুলেছে। এসব অবস্থান যখন ব্যক্তির স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তখন তার সমালোচনা করা শুধু যুক্তিসংগত নয়, গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।

এবার আসি বাংলাদেশ প্রশঙ্গে। এখানে আলিয়া ও কওমি—দুই ধারার মাদ্রাসা শিক্ষা রয়েছে। এদের পাঠ্যক্রম, প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা এক নয়।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসংখ্যা নিয়ে জানা যায় প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষ করে কী ধরনের পেশায় প্রবেশ করতে পারছে? সে কি উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে? ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তার দক্ষতা কতটা? কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে তার শিক্ষার সংযোগ কোথায়?

যদি কোনো শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জীবিকা অর্জন, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক গতিশীলতার পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়; বরং শিক্ষার্থীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক কিছু উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক ধর্মীয় উগ্রবাদী ভাষ্য ও পরিচয়কে ব্যবহার করে সহিংসতার পক্ষে সমর্থন তৈরির চেষ্টা করেছে এবং বেশ কিছু ঘটনাও ঘটিয়েছে ।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল এইসব প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করতে শেখানো হয়, নারীকে অধস্তন হিসেবে দেখা হয়, প্রশ্ন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় কিংবা সহিংস মতাদর্শকে নৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়া হয়। তাহলে এই শিক্ষার সামাজিক পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া সকল মানবিক মানুষের অবশ্যই যুক্তিসংগত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন, শারীরিক শাস্তি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে হবে। কোনো শিশুর শৈশব প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার বলি হতে পারে না। অপরাধীর পরিচয় শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি—যাই হোক, আইন সবার জন্য সমান হতে হবে।

একইভাবে, নারীকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সম্পত্তি, মতপ্রকাশ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সমান অধিকার দিতে হবে। ধর্মীয় ব্যাখ্যার নামে নারীর স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে দাঁড়াতে হবে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় দান, দাতব্য অর্থ এবং কখনো বিদেশি অনুদানের সহায়তায় পরিচালিত হয়। এইসব বিদেশি অনুদান উগ্রবাদে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন খবর বারবার গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু ইসলামিক দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর চাপে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমাদের চক্রান্তে অনেক সময় এই অর্থের উৎস, ব্যয়ের হিসাব এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক শর্ত সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারিনি রাষ্ট্র।

বিদেশি অনুদান যদি শিক্ষার মান উন্নয়ন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা কিংবা মানবিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়, তবে তার মূল্যায়ন হবে বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে। আর যদি কোনো অর্থ জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় সহিংসতা, ঘৃণা কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই নীতি সব ধর্মীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

এখন প্রয়োজন একটি জাতীয় শিক্ষাসংস্কার কর্মসূচি, যার লক্ষ্য হবে ধর্মীয় শিক্ষার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আধুনিক পৃথিবীর উপযোগী করে তোলা।

প্রথমত, সব ধারার শিক্ষার্থীর জন্য বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা, সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত করতে হবে সকলকে।

দ্বিতীয়ত, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে।

তৃতীয়ত, শিক্ষক প্রশিক্ষণে আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান, শিশুমনস্তত্ত্ব, যুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং বহুত্ববাদী মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।

চতুর্থত, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীদের অপমান করা নয়, বরং তাদের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা।

পঞ্চমত, ধর্মীয় নেতৃত্বের কাছেও স্পষ্ট প্রত্যাশা জানাতে হবে: ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের নৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক, কিন্তু তা যেন বিজ্ঞানবিরোধিতা, নারী-বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকারের হাতিয়ার না হয়।

আজ পৃথিবী মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এই পৃথিবীতে বাংলাদেশের কোনো শিশুকে তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের কারণে পিছিয়ে থাকতে দেওয়া যায় না।

একটি রাষ্ট্রের শক্তি নির্ধারিত হয় তার নাগরিকদের জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিকতা ও স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা দিয়ে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে আধুনিক জ্ঞানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রেখে উন্নত অর্থনীতি, স্থিতিশীল গণতন্ত্র কিংবা শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নয়; লড়াই সেই শিক্ষাগত বৈষম্য, অন্ধ আনুগত্য, ঘৃণার রাজনীতি এবং প্রগতিবিরোধী কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে, যা তাদের সম্ভাবনাকে আটকে রাখে। আর যে রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তচিন্তার অধিকার দিতে ব্যর্থ হয়, সে রাষ্ট্র প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করলেও প্রকৃত অর্থে আধুনিক হয়ে উঠতে পারে না।