খবর

বাবুঘাট থেকে মায়াপুরে ফেরি, ধর্মীয় পর্যটনে নতুন জলপথ খুলতে লক্ষ্য ১৫ মাস

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কলকাতা থেকে গঙ্গাবক্ষে ভেসে মায়াপুর, পথে ধর্মস্থান ও ইতিহাসের ঠিকানা ছুঁয়ে দেখা।
  • ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে এগিয়ে নিতে বাবুঘাট–মায়াপুর জলপথে মিশ্র শক্তিচালিত বৈদ্যুতিক ফেরি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
  • আগামী ১৫ মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কলকাতা থেকে গঙ্গাবক্ষে ভেসে মায়াপুর, পথে ধর্মস্থান ও ইতিহাসের ঠিকানা ছুঁয়ে দেখা। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে এগিয়ে নিতে বাবুঘাট–মায়াপুর জলপথে মিশ্র শক্তিচালিত বৈদ্যুতিক ফেরি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ১৫ মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদীর দু’ধারের দর্শনীয় স্থানগুলিকে জলপথে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলায় একসময় যাতায়াতের প্রধান ভরসা ছিল নদীপথ। সড়ক ও রেল যোগাযোগের বিস্তারে সেই গুরুত্ব কমেছে। প্রস্তাবিত পরিষেবায় পুরনো জলপথকে পর্যটনের উপযোগী করে ফের ব্যবহারের ভাবনা রয়েছে। বর্ষায় জলজমা ও বেহাল রাস্তায় যাতায়াতের দুর্ভোগের প্রেক্ষাপটেও বিকল্প পথের প্রয়োজন সামনে এসেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দু’টি ফেরির প্রতিটিতে ১০০ জন যাত্রী বহনের ব্যবস্থা থাকবে। সেগুলি সংগ্রহের জন্য ২৯ অগস্ট পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের মাধ্যমে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, ধর্মস্থানগুলির পাশাপাশি স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এলাকাকেও এই ভ্রমণপথের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত পর্যটনপথে দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, হংসেশ্বরী মন্দির এবং ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দিরের মতো গন্তব্য রয়েছে। পাশাপাশি ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর ও ব্যান্ডেলের ঔপনিবেশিক ইতিহাসকে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, তীর্থভ্রমণের সঙ্গে বাংলার অতীতকে জানার সুযোগ জুড়তে চাইছে সরকার। তবে পর্যটনপথে কোনও স্থান অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অর্থ সেখানে প্রত্যেক ফেরির নিয়মিত বিরতি নিশ্চিত হওয়া নয়।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য রাজ্যগুলিকে মূলধনি বিনিয়োগে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে অর্থ আসবে। ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর ও হুগলিতে ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতা, অম্বিকা কালনা-সহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন জেটিও তৈরির কথা বলা হয়েছে। ফলে ফেরির সঙ্গে তীরবর্তী পরিকাঠামোও এই উদ্যোগের অংশ।

এই পরিকল্পনার তাৎপর্য হল, যাত্রাপথকেই ভ্রমণের আকর্ষণ করে তোলা। সড়কপথে কোনও গন্তব্যে পৌঁছে দর্শনীয় স্থান দেখার পরিচিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে নদীভ্রমণের ফারাক রয়েছে। এখানে ঘাট, নদীর পাড়, বসতি এবং স্থাপত্য দেখতে দেখতে এগোনোর সুযোগ মিলতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা আকর্ষণীয় করতে কোন জায়গায় কতক্ষণ থামা হবে এবং সেখান থেকে দর্শনীয় স্থানে পৌঁছনোর ব্যবস্থা কেমন হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

করে ঘাট থেকে মন্দির বা ঐতিহাসিক ভবন পর্যন্ত দূরত্ব বেশি হলে পরবর্তী যাতায়াতের ব্যবস্থা জরুরি হবে। ফেরির সময়ের সঙ্গে স্থানীয় গাড়ির সময় না মিললে জলপথের আরাম শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার দুর্ভোগে বদলে যেতে পারে। পরিকল্পনার সাফল্য তাই এই সমন্বয়ের উপরও নির্ভর করবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকেরা বিভিন্ন ঘাটে নেমে সময় কাটালে স্থানীয় খাবারের দোকান, ছোট ব্যবসা, পথপ্রদর্শক এবং স্থানীয় পরিবহণের চাহিদা বাড়তে পারে। কিন্তু সেই সুফল পেতে নদীভ্রমণের সঙ্গে তীরবর্তী পরিষেবার সংযোগ প্রয়োজন। শুধু যাত্রী নিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছলে মাঝপথের জনপদগুলির ব্যবসায় তার প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনাও থাকবে।

যাত্রীদের কাছে অবশ্য প্রথম প্রশ্ন হবে ভাড়া, সময় এবং সুবিধা নিয়ে। বাবুঘাট থেকে মায়াপুর পৌঁছতে কতক্ষণ লাগবে, একই দিনে ফেরা যাবে কি না, কোথায় কোথায় নামা যাবে এবং টিকিট কীভাবে মিলবে—এসবের উত্তর ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্য জরুরি। যাচাই করা প্রকাশিত বিবরণে এই বিষয়গুলির চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এখনই নির্দিষ্ট যাত্রাসূচি ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার অবকাশ নেই।

পরিষেবাটিকে নিয়মিত আকর্ষণ করে তুলতে নিরাপদ ওঠানামা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, পানীয় জল এবং প্রবীণ যাত্রীদের সুবিধাও গুরুত্ব পাবে। ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রে দলবদ্ধ যাত্রার প্রয়োজন মেটানোর বিষয়টিও বিবেচ্য। ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী ফেরি ও ঘাট প্রস্তুত হওয়ার পরে পরিষেবার বাস্তব রূপ স্পষ্ট হবে। আপাতত বাবুঘাট থেকে মায়াপুর পর্যন্ত নদীকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন-যোগাযোগ গড়ার পরিকল্পনাই সামনে এসেছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles