ত্বক আর চুলের যত্নে ঘরোয়া টোটকায় ভরসা করেন সোনাক্ষী সিনহা ও জ়াহির ইকবাল। সম্প্রতি পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ়াহির বললেন, “অ্যালো ভেরার পাতা কেটে মুখে লাগিয়ে নাও।” ‘হীরামান্ডি’র অভিনেত্রী সোনাক্ষী যোগ করলেন, “অ্যালো ভেরা সত্যিই ত্বক আর চুলের জন্য ভাল।”
চুলের যত্নে তাঁদের আর একটি ঘরোয়া মিশ্রণও আছে। তাঁদের গৃহসহায়িকা ঊষা রেড়ির তেল, রোজমেরি তেল, লবঙ্গ আর কালোজিরে মিশিয়ে সেটি তৈরি করেন। সোনাক্ষী আর জ়াহিরের কথায়, এটাই তাঁদের ‘হেয়ার ককটেল’।
ত্বকের যত্নে অ্যালো ভেরা কতটা উপকারী?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, স্কিনবিবি-র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পিআরএসি-র অন্যতম সদস্য ডা. প্রবীণ বানোদকর জানালেন, অ্যালো ভেরা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ত্বকের জ্বালায় সাময়িক আরাম মিলতে পারে। তবে অ্যালো ভেরা সকলের ত্বকে সয় না। সংবেদনশীল ত্বকে ব্রণ বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও ‘দ্য এপিভার্স – ইউনিভার্স অফ স্কিন, লাইফস্টাইল অ্যান্ড কনফিডেন্স’ বইয়ের লেখক ডা. শরিফা চাউসে জানালেন, অ্যালো ভেরার জেলে জল ও বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। এগুলি ত্বকের জ্বালা প্রশমিত করতে পারে, শুষ্কতার অস্বস্তি থেকেও সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। ত্বকের উপরিভাগ অল্প পুড়ে গেলে তা সেরে উঠতেও অ্যালো ভেরা কিছুটা সাহায্য করতে পারে।
তবে অ্যালো ভেরা ব্রণ, ত্বকের ছোপ-দাগ বা অন্য কোনও চর্মরোগ সারায়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে জানালেন ডা. চাউসে। তিনি বলেন, “বেশির ভাগ মানুষের ত্বকে অ্যালো ভেরা সয়ে যায়। তবে কারও কারও চুলকানি, লালচে ভাব, জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই মুখে লাগানোর আগে ত্বকের ছোট্ট একটি অংশে লাগিয়ে দেখে নিন, কোনও প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না। ত্বক কেটে-ছড়ে গেলে বা সেখানে খুব জ্বালা থাকলে অ্যালো ভেরা লাগাবেন না।”
চুলের ‘ককটেল’ কতটা কাজে দেয়?
ডা. বানোদকরের মতে, রেড়ির তেল, রোজমেরি তেল, লবঙ্গ ও কালোজিরের মতো উপাদানে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণ থাকতে পারে। এগুলি চুল নরম রাখতে ও মাথার ত্বকের যত্নেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। তবে একেক জনের ক্ষেত্রে ফল একেক রকম। বহু দিন ধরে ঘরে কোনও উপাদান ব্যবহারের চল থাকলেই তার উপকারিতা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয় না।
তাঁর কথায়, “এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারে সতর্ক থাকা দরকার। খুব ঘন তেল ত্বকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ বা জ্বালা হতে পারে। এই সব উপাদান উপযুক্ত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। ত্বক বা চুলের জন্য চিকিৎসক যে চিকিৎসা দিয়েছেন, তার বদলে এগুলি ব্যবহার করা উচিত নয়।” প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে বাড়তি যত্ন হিসেবে এগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
ডা. চাউসে জানালেন, চুল বাড়াতে এবং মাথার ত্বক ভাল রাখতে অ্যালো ভেরা, রেড়ির তেল, রোজমেরি তেল, লবঙ্গ ও কালোজিরের মিশ্রণের কথা প্রায়ই শোনা যায়। তাঁর কথায়, “অ্যালো ভেরা আর্দ্রতা জোগাতে পারে, রেড়ির তেলে চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়তে পারে। চুলের বৃদ্ধিতে রোজমেরি তেলেরও কিছু সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে।” তবে সব ক’টি উপাদান একসঙ্গে মাখলে চুল বাড়ে, এমন প্রমাণ নেই। এই মিশ্রণে লবঙ্গ ও কালোজিরে ঠিক কী উপকার করে, তা-ও স্পষ্ট নয়।
বিশেষ করে রোজমেরি ও লবঙ্গের এসেনশিয়াল অয়েল পাতলা না করে সরাসরি লাগালে মাথার ত্বকে জ্বালা হতে পারে। ডা. চাউসের পরামর্শ, “তেল যথাযথ ভাবে পাতলা করে নিন। আগে ত্বকের ছোট্ট একটি অংশে লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। জ্বালা হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।” আর চুল যদি একটানা পড়তে থাকে? তাঁর কথায়, “কারণটা জানতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার।”
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।