মেদ ঝরিয়ে পেশিবহুল চেহারায় ফেরার লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে শরীরচর্চা শুরু গায়কের। তবে শুধু কঠোর ব্যায়াম নয়, চোট এড়িয়ে সুস্থ ভাবে ফিট থাকতে কী পরামর্শ চিকিৎসকের?

ফের পুরনো পেশিবহুল চেহারায় ফিরতে চান হিমেশ রেশমিয়া। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে স্পষ্ট পেশির গঠন, অর্থাৎ ‘রিপড’ লুক ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে শরীরচর্চা শুরু করেছেন গায়ক-সুরকার-অভিনেতা। সম্প্রতি নিজের ব্যায়ামের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে সেই নতুন সংকল্পের কথাই জানিয়েছেন তিনি।

পোস্টের ক্যাপশনে হিমেশ লেখেন, ‘‘জয় মাতাদি! লেটস রক! সোনিয়া কাপুর, তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার জন্যই আজ থেকে আবার দুর্দান্ত চেহারায় ফিরতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। নতুন মানসিকতা, নতুন লক্ষ্য—দারুণ গান তৈরি করা, দারুণ ছবি বানানো এবং আবার মেদহীন, পেশিবহুল চেহারায় ফেরা। ‘গানমাস্টার’ ও ‘ইয়ে প্রেম মোল লিয়া’-র গানের সাফল্যের পরে এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সময়।’’

হিমেশের এই শরীরচর্চার ভিডিয়ো নতুন করে ফিটনেস নিয়ে আগ্রহ তৈরি করলেও, ব্যায়ামের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। এস এল রাহেজা হাসপাতাল—আ ফোর্টিস অ্যাসোসিয়েট-এর জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট ও অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনুপ ধামনগাঁওকরের মতে, সঠিক ব্যায়াম শুধু পেশি গঠনেই সাহায্য করে না, হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং অস্থিসন্ধির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ডট কম’-কে তিনি বলেন, ‘‘পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম পেশির জোর, হাড়ের ঘনত্ব এবং অস্থিসন্ধির স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্য দিকে, পিলাটিসের মতো ব্যায়াম শরীরের মধ্যভাগের পেশিগুলিকে শক্তিশালী করে, নমনীয়তা বাড়ায় এবং ভারসাম্য ও দেহভঙ্গির উন্নতি ঘটাতে পারে।’’

তবে ব্যায়ামের সুফল অনেকটাই নির্ভর করে তা কতটা সঠিক পদ্ধতিতে করা হচ্ছে, তার উপর। ভুল কায়দায় ব্যায়াম করা, নিজের সামর্থ্যের তুলনায় বেশি ওজন তোলা কিংবা হঠাৎ শরীরচর্চার তীব্রতা বাড়িয়ে দিলে অস্থিসন্ধি, টেন্ডন, লিগামেন্ট ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ফলে চোট পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

চিকিৎসকের পরামর্শ, ব্যায়ামের রুটিন তৈরির আগে নিজের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, চিকিৎসার ইতিহাস এবং পেশি, হাড় বা অস্থিসন্ধির কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যাঁরা নতুন করে শরীরচর্চা শুরু করছেন, তাঁদের মাঝারি মাত্রার ওজন বা প্রতিরোধ ব্যবহার করে ব্যায়াম শুরু করা উচিত। ধীরে ধীরে শরীরের সক্ষমতা বাড়লে তবেই ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। ধামনগাঁওকরের কথায়, ‘‘যথাযথ তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে পেশির উপর চাপ বাড়াতে হবে।’’

চোট এড়াতে সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখা, নিয়ন্ত্রিত গতিতে ব্যায়াম করা এবং শরীরচর্চার আগে ওয়ার্ম-আপ করাও অত্যন্ত জরুরি। শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই হবে না, শরীরকে সেরে ওঠার সময়ও দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক জানান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম পুষ্টি এবং প্রোটিন পেশির পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়ামের সময়ে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, ফোলা, অস্বস্তি কিংবা স্বাভাবিক ভাবে নড়াচড়া করতে অসুবিধা হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যথা সহ্য করে শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস বরং বিপদ ডেকে আনতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, তারকাদের শরীরচর্চা দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া ভাল, কিন্তু তাঁদের রুটিন নিজের শরীরের উপরে হুবহু প্রয়োগ করা ঠিক নয়। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য শুধু পেশিবহুল চেহারা তৈরি করা নয়, বরং শরীরকে শক্তিশালী রাখা, অস্থিসন্ধিকে সুরক্ষিত রাখা এবং দীর্ঘদিন সুস্থ ভাবে চলাফেরার ক্ষমতা বজায় রাখা।