বাংলাস্ফিয়ারঃ শহরের দরিদ্র মহিলাদের জীবিকা কর্মসূচি টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রের কাছে জরুরি অর্থ চেয়েছে তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও ত্রিপুরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনইউএলএমের উত্তরসূরি প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তায় ব্যাঙ্কঋণের সংযোগ ও সহায়তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রাজ্যগুলির।
তামিলনাড়ু ৩৫০ কোটি, মহারাষ্ট্র প্রায় ৮১ কোটি, মধ্যপ্রদেশ ১০১ কোটি এবং ত্রিপুরা সাড়ে ছয় কোটি টাকা চেয়েছে। মন্ত্রকসূত্রের দাবি, কোনও রাজ্যের অর্থের দাবি বকেয়া নেই; নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই সঙ্কটের পটভূমিতে রয়েছে একটি পুরনো প্রকল্পের সমাপ্তি এবং নতুন ব্যবস্থায় উত্তরণের প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক গত ২৯ জানুয়ারি লোকসভায় জানিয়েছিল, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা–জাতীয় নগর জীবিকা মিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। শহরের গরিব মানুষের আর্থিক, সামাজিক ও বাসস্থানের অনিশ্চয়তা কমানো ছিল এর উদ্দেশ্য। ফলে প্রকল্পটির গুরুত্ব শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না; দরিদ্র পরিবারের সামগ্রিক নিরাপত্তাও এর সঙ্গে যুক্ত।
সরকারি হিসাবেই এই কর্মসূচির বিস্তার ছিল বিপুল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ লক্ষ ২ হাজার ৫৪৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠিত হয়েছিল। দক্ষতা প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন ১৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৯৫২ জন। শহরের গৃহহীনদের জন্য তৈরি হয়েছিল ১,৯৯৫টি আশ্রয়কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৪১ হাজার শয্যার ব্যবস্থা ছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রভাব কত বিস্তৃত হতে পারে।
মন্ত্রকের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের নথি অনুযায়ী, এক কোটির বেশি শহুরে দরিদ্র মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতায় এসেছিলেন। প্রশিক্ষণ, কাজের সুযোগ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়তে ভর্তুকিযুক্ত ঋণ এবং গোষ্ঠীর সঞ্চয়ের ভিত্তিতে ব্যাঙ্কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি ছিল জীবিকা সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অর্থাৎ, মহিলাদের সংগঠিত করা থেকে তাঁদের উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থের সঙ্গে যুক্ত করা পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ার চেষ্টা হয়েছিল।
পুরোনো মিশনের পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২৫টি শহরে শুরু হয় দীনদয়াল জন আজীবিকা–শহরি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি। এতে ছয় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশার মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল: গিগ শ্রমিক, পরিবহণকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার কর্মী, পরিচর্যাকর্মী এবং গৃহকর্মী। তাঁদের প্রয়োজন বুঝে নির্দিষ্ট সহায়তার ব্যবস্থা তৈরিই ছিল পরীক্ষার উদ্দেশ্য।
ডিসেম্বরের সরকারি নথিতে এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮০ কোটি টাকা। বৃহত্তর পরিকল্পনায় প্রায় আড়াই কোটি শহুরে দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যও ছিল। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, উদ্যোগ গঠন, সামাজিক পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা একত্র করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এই পরিকল্পনা ঘোষণাকে দেশজুড়ে পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প চালু হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।
একই নথিতে বলা হয়েছিল, পুরনো মিশনে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কেন্দ্রীয় সহায়তা হিসেবে ৫,৭৩৩ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়েছে। তাই অর্থের জোগান ব্যবস্থার প্রান্তিক বিষয় নয়, কার্যক্রম চালানোর অন্যতম ভিত্তি। কেবল ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করে বর্তমানের সহায়তা বজায় রাখা সম্ভব নয়; তার জন্য বরাদ্দ, দায়িত্ব এবং অর্থ ছাড়ার সময়সীমা সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
শহুরে জীবিকা সহায়তার অন্য ব্যবস্থাও রয়েছে। জানুয়ারির সংসদীয় জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছিল, পথবিক্রেতাদের জামানতবিহীন কার্যকরী মূলধনের ঋণ দেওয়ার পিএম স্বনিধি প্রকল্পের ঋণদানের মেয়াদ ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট পেশার জন্য ঋণ এবং সব ধরনের দরিদ্র পরিবারের গোষ্ঠীভিত্তিক সহায়তা একই প্রয়োজন মেটায় না।
এই প্রেক্ষাপটে অর্থের ধারাবাহিকতার প্রশ্নটি তাৎপর্যপূর্ণ। একটি গোষ্ঠী গঠন করলেই তার ব্যবসা স্থায়ী হয় না; প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, ঋণ পাওয়ার সহায়তা এবং নিয়মিত যোগাযোগ। নতুন প্রকল্পের নকশা তৈরির সময়ে সেই সহায়তায় ছেদ পড়লে আগের বিনিয়োগের সুফলও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রাজ্যগুলির আবেদন তাই নতুন ঘোষণার পাশাপাশি চলতি পরিষেবা কীভাবে বজায় থাকবে, সেই প্রশ্ন সামনে আনছে।