বাংলাস্ফিয়ারঃ সংসদের বিভাগীয় স্থায়ী কমিটিগুলির সভাপতি পদে রদবদল আসন্ন। মোট ২৪টি কমিটির মধ্যে ছ’টির সভাপতি বদল হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের একদল সাংসদ শিবির বদল করায় দলটি দু’টি কমিটির সভাপতির পদ হারাতে চলেছে বলে জানা গেছে।
বাণিজ্যবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেতে চলেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের নেতৃত্বাধীন রাসায়নিকবিষয়ক কমিটির সভাপতি হতে পারেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছেন কাকলি। স্বল্পপরিচিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে তাঁদের গোষ্ঠী মিশে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পরপরই কাকলির নেতৃত্বে তৃণমূলের একদল সাংসদ লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হন। তাঁরা দাবি করেন, ত্রিপুরাভিত্তিক দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে তাঁরা মিশে গিয়েছেন। লোকসভায় তাঁদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানান। দলত্যাগী এই গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে, এমন অন্য পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে শিক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে রদবদল। কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ দিগ্বিজয় সিংহের জায়গায় ওই দায়িত্ব পেতে চলেছেন তাঁরই দলের মুকুল ওয়াসনিক।
বিজেপিও তাদের তিনটি কমিটির সভাপতি পদে পরিবর্তন করেছে। কর্মিবর্গ, জনঅভিযোগ, আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দলের সাংসদ ব্রিজ লালের জায়গায় আসছেন সুজিত কুমার। শ্রম, বস্ত্র ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক কমিটির সভাপতি পদে লোকসভার সাংসদ বাসবরাজ বোম্মাইয়ের পরিবর্তে দায়িত্ব পাচ্ছেন শশাঙ্ক মণি। রেলবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান হিসেবে সি এম রমেশের জায়গায় বিজেপি সাংসদ সুধীর গুপ্তকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে সংবাদ্মাধ্যম।
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ ব্রিজ লালের মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হতে চলেছে। সেই কারণেই তাঁকে কমিটির সভাপতি পদ থেকে সরানো হতে পারে।
সংসদে মোট ২৪টি বিভাগীয় স্থায়ী কমিটি রয়েছে। প্রতিটি কমিটিতেই লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষের সদস্যরা থাকেন। এর মধ্যে আটটি কমিটি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের অধীনে এবং বাকি ১৬টি লোকসভার স্পিকারের অধীনে কাজ করে।