কলকাতার এক ১৩ বছরের কিশোরীকে হুগলির একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও তুলে পরে তা দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। নাবালিকাকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর, শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কিশোরী। বিরাটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও মেয়ে না ফেরায় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ফোন করেন মা। তখন কিশোরী জানায়, বান্ধবীর সঙ্গে ব্যারাকপুরে রয়েছে এবং রাতের মধ্যেই বাড়ি ফিরবে।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সে ফেরেনি। মা আবার ফোন করে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে এক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি ছিল, রাস্তায় মেয়েটিকে কাঁদতে দেখে নিজের ফোন ব্যবহার করতে দিয়েছেন তিনি। মেয়ের অবস্থান নিয়ে পরিবার তখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
রাত ১২টা ৬ মিনিটে মায়ের কাছে কিশোরীর একটি বার্তা আসে। সে জানায়, বিপদে পড়েছে; বান্ধবী তাকে অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এর পরে আর এক ব্যক্তি ফোন করে আশ্বাস দেন, মেয়ে নিরাপদেই রয়েছে এবং গাড়িতে বাড়ি ফিরবে। পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তি পরে জানান, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এক কেয়ারটেকার তাঁকে বলেছেন, মিনিট দশেক আগেই একটি চারচাকা গাড়ি বেরিয়েছে। সেই গাড়িতেই মেয়ে ফিরছে বলে বোঝানো হয়। যদিও ওই রাতে কিশোরী আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। শেষ পর্যন্ত পরদিন, রবিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বাড়ি ফেরে কিশোরী।
মায়ের অভিযোগ, মেয়েকে হুগলির হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোর করে ঠান্ডা পানীয় খাওয়ানো হয়েছিল। সেই পানীয়তে ঘুমের ওষুধ বা মাদকজাতীয় পদার্থ মেশানো ছিল বলে তাঁর দাবি। এর পরে একাধিক ব্যক্তি তাকে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। কিশোরীকে জোর করে গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ানোর কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন মা। অভিযোগে মেয়ের বান্ধবী-সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তেরা নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে রেকর্ড করেছিল। পরে সেই ভিডিও মায়ের কাছে পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। ভিডিওকে হাতিয়ার করে কিশোরী ও তার পরিবারকে ভয় দেখানো হচ্ছিল বলেও জানিয়েছেন মা। তাঁর বক্তব্য, এই হুমকির কারণেই প্রথমে পুলিশের কাছে যাওয়ার সাহস পাননি তাঁরা। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
হোটেলে যাওয়া এবং সেখানে থাকার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুগলির পোলবার ওই হোটেলে রবিবার ভোর তিনটে পঞ্চাশ মিনিট নাগাদ ঘর নেওয়া হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে কিশোরীর সঙ্গে এক যুবতী ও দুই যুবককে রিসেপশনে আসতে দেখা যায়। সেখানে দু’টি ঘর নেওয়া হয়। তাঁদের একজনের হাতে মদের বোতল ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, ঘর নেওয়ার সময় কিশোরীর নিজের পরিচয়পত্র জমা দেওয়া হয়নি। অন্য এক যুবতীর আধার কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার সকাল আটটা কুড়ি থেকে আটটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে ওই চারজনকে হোটেল ছেড়ে যেতে দেখা যায়। বাড়ি ফেরার পরে কিশোরী কান্নাকাটি করছিল এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল বলেও পরিবার জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার বিবরণ যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে হোটেলে দু’টি ঘর নেওয়া ও চারজনের উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। তবে পরিবারের তোলা অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখনও এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।