বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর পদপিষ্টের ঘটনায় তদন্তে নতুন বাধা। মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় বসানো ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১৭টির ফুটেজ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশের দাবি, একটি ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) বিকল থাকায় ওই ক্যামেরাগুলির রেকর্ডিং পাওয়া যাচ্ছে না। কীভাবে এই যান্ত্রিক ত্রুটি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বাকি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপের বাইরে ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রবল বৃষ্টি এবং মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে বলে মাইকে ঘোষণা ঘিরে আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৩০টি ক্যামেরার মধ্যে ১৪টি ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত দ্বিতীয় ডিভিআরটি সচল ছিল। সেখান থেকে ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একটি ক্যামেরার রেকর্ডিং পেতে প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়েছেন তদন্তকারীরা। অন্য দিকে, প্রথম ডিভিআরটি কাজ না করায় তার সঙ্গে যুক্ত ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এই ফুটেজগুলি উদ্ধার করা গেলে ভিড়ের গতিবিধি, প্রবেশ ও প্রস্থানের পরিস্থিতি এবং মাইকে ঘোষণার সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ পুজোমণ্ডপের নকশা ও নির্মাণের দায়িত্বে থাকা শিল্পী সুশান্ত পালকে তলব করেছে। মণ্ডপের নকশা, দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা এবং ভিড় সামলানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। ঘটনার রাতে মণ্ডপের বাইরে এবং প্রবেশ ও প্রস্থানপথে দায়িত্বে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। আহত ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী, নিরাপত্তারক্ষী, হোমগার্ড ও স্থানীয় বাসিন্দা-সহ প্রায় ৬০ জনের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পদপিষ্টের ঘটনার কারণ এবং সম্ভাব্য গাফিলতি চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকার ছ’সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ওই দল মণ্ডপ পরিদর্শন করেছে। তদন্তে পুজো উদ্যোক্তা, প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিটকে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ঠিক কখন মাইকে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার ঘোষণা হয়েছিল এবং তার আগে-পরে ভিড়ের পরিস্থিতি কী ছিল। সেই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ার কারণও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বাকি রেকর্ডিং উদ্ধার করা গেলে চোরবাগানের বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতা বুঝতে এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।