বাংলাস্ফিয়ারঃ ১৯৪৯ সালে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মণিপুরের সংযুক্তির প্রতিবাদে আগামী ১৫ অক্টোবর ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে রাজ্যের সাতটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন। দিনটিকে ‘জাতীয় কালা দিবস’ হিসেবে পালন করার কথা জানিয়েছে তারা।
মূলত ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনগুলি জানিয়েছে, জরুরি চিকিৎসা-সহ অত্যাবশ্যক পরিষেবা, সংবাদমাধ্যমের কাজকর্ম এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধের আওতার বাইরে থাকবে।
সাতটি সংগঠনের মধ্যে ছ’টি যৌথ মঞ্চ ‘কোঅর্ডিনেশন কমিটি’র অন্তর্ভুক্ত। এগুলি হল কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি, কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ, পিপল্স রেভলিউশনারি পার্টি অব কাংলেইপাক বা প্রেপাক, প্রেপাক-প্রো, রেভলিউশনারি পিপল্স ফ্রন্ট এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট। সপ্তম সংগঠন সোশ্যালিস্ট রেভলিউশনারি পার্টি পৃথক বিবৃতিতে ১৯৪৯ সালের সংযুক্তির বিরুদ্ধে বন্ধের ডাক দিয়েছে।
মণিপুরকে তার পুরনো নাম ‘কাংলেইপাক’ বলে উল্লেখ করে সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে, প্রায় আট দশক আগে ওই সংযুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছিল। নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে তারা রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ, চুক্তি-সংক্রান্ত আইন বিষয়ে ভিয়েনা কনভেনশন, ১৯৪৭ সালের মণিপুর রাজ্য সংবিধান আইন এবং ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের উল্লেখ করেছে।
সংগঠনগুলির আরও অভিযোগ, ১৯৪৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শিলংয়ে রাজা বোধচন্দ্রকে চাপ দিয়ে মণিপুর সংযুক্তিকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল। তাদের দাবি, রাজাকে গৃহবন্দি করে বন্দুকের মুখে ওই চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয়।
স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের নীতিরও সমালোচনা করেছে সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, ছোট ছোট দেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় ইন্ধন জুগিয়ে ভারত সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছিল। বিশ্বজুড়ে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের এই নীতির বৈপরীত্য তুলে ধরে, নয়াদিল্লির কথিত ‘ঔপনিবেশিক দখলদারি’র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।