সাংবাদিকদের আটকের কারণ বা কোন আইনি ধারায় তাঁদের আটক করা হচ্ছে, তা জানায়নি পুলিশ।

রবিবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তিন সাংবাদিককে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁদের ১২ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সাংবাদিকেরা কনট প্লেস থেকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শাশ্বত বলেন, “আমরা জানতে পারি, নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করতে আইসার সভাপতি নেহা বোরা আর কে আশ্রমে পৌঁছবেন। কিন্তু পথে একের পর এক ব্যারিকেড ছিল। পুলিশ আমাদের বারবার ঘুরপথে যেতে বলে।”

এমনই একটি ঘুরপথ ধরে তিন সাংবাদিক চেমসফোর্ড রোডে পৌঁছন। সেখানে তাঁরা দেখেন, কয়েক জন ছাত্র বিক্ষোভকারীকে আটক করা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে পুলিশ ওই সাংবাদিকদেরও ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আটক করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

শাশ্বত জানান, তাঁরা প্রতিবাদ করেন এবং নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ও দেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের বাসে উঠতে বলা হয় এবং সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ কখন কাউকে আটক করতে পারে?

গত ২ অক্টোবর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় নয়াদিল্লিজুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল্লি পুলিশ। এই ধারা অনুযায়ী, জনশান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি বিপদ ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জরুরি নির্দেশ জারি করতে পারেন। জমায়েতের উপরে বিধিনিষেধ আরোপও তার অন্তর্ভুক্ত।

এই ধরনের নির্দেশ অমান্য করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২২৩ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে পুলিশ ইচ্ছেমতো বা নির্বিচারে পদক্ষেপ করতে পারে না।

আটক বা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির কী কী অধিকার রয়েছে?

সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ নির্বিচার গ্রেফতার ও আটকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। সাধারণভাবে এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে, আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে এবং যাতায়াতের সময় বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।

বিএনএসএসের ৩৮ ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পুরো সময় আইনজীবীর উপস্থিত থাকার অধিকার এই ধারা দেয় না।

১৯৯৭ সালের ডি কে বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু সুরক্ষামূলক নির্দেশ দিয়েছিল। তার মধ্যে রয়েছে গ্রেফতারকারী পুলিশকর্মীদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, গ্রেফতার-সংক্রান্ত নথি বা ‘অ্যারেস্ট মেমো’ তৈরি করা এবং গ্রেফতারের খবর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনও আত্মীয় বা বন্ধুকে জানানো।

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে?

বিক্ষোভের মধ্যে আরোপিত বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কাউকে আটক করতে হলে আইননির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিশেষত, ১৬৩ ধারার নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কর্তৃপক্ষকে ব্যারিকেডগুলি পর্যালোচনা করতে, যান চলাচলের বিধি মেনে মানুষের যাতায়াতের সুযোগ দিতে এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বাস দেন, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং অন্য পেশাজীবীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হবে না।