বাংলাস্ফিয়ার: মহারাষ্ট্রের নান্দেড়ে একটি গুরুদ্বারে শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলকে কৃপাণ দিয়ে হামলা চালানো হল। তাঁর ডান হাতে গুরুতর ক্ষত তৈরি হলেও প্রাণহানির আশঙ্কা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। বাদলকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষী সন্তোষ কেন্দ্রে। হামলাকারী জসপাল সিং তেজপালকে ঘটনাস্থলেই ধরে ফেলে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ নান্দেড়ের মুড়খেড় মহকুমার মুগা গ্রামের গুরুদ্বার মাতা সাহিব দেবানজি মুগাটে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুরুদ্বারে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন বাদল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও। প্রার্থনা শেষ করে বাদল গুরুদ্বারের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় নীল পোশাক পরিহিত এক নিহঙ্গ শিখ আচমকা তাঁর দিকে এগিয়ে যান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হামলাকারী কৃপাণ দিয়ে বাদলের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। বিপদ বুঝতে পেরে নিরাপত্তারক্ষী সন্তোষ কেন্দ্রে তাঁকে বাধা দেন। ধস্তাধস্তির মধ্যে কৃপাণের আঘাত লাগে বাদলের ডান হাতে। নিরাপত্তারক্ষীও সামান্য আহত হন। অন্য নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

বাদলকে নান্দেড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর হাতে কয়েকটি সেলাই পড়েছে। তিন জন শল্যচিকিৎসকের একটি দল তাঁর চিকিৎসা করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি বিপন্মুক্ত এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরসিমরত কৌরের সঙ্গে কথা বলে বাদলের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।

ধৃত জসপালের বয়স ৬২ বছর। তিনি পুণের বাসিন্দা এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। গত দু’বছর ধরে তিনি ওই গুরুদ্বারে সেবাদার হিসেবে কাজ করছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তবে কী কারণে তিনি বাদলের উপর হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর পুণের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাসদমন শাখা। কারও নির্দেশে তিনি হামলা চালিয়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস নান্দেড়ের পুলিশ সুপারের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। হামলার উদ্দেশ্যের পাশাপাশি বাদলকে দেওয়া ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অকালি নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

দু’বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সুখবীর বাদলের উপর এটি দ্বিতীয় হামলা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের প্রবেশপথে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় সে বারও অক্ষত ছিলেন তিনি।