ভারত ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে অভিনেতা ইমরান খানের আবেদনের শুনানি পিছিয়ে দিল বম্বে হাই কোর্ট। তাঁর আইনজীবী, প্রবীণ অ্যাডভোকেট বেঙ্কটেশ ধোন্ড আদালতকে জানান, সলিসিটর তুষার মেহতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরপর শুনানির জন্য সময় চান তিনি। মেহতা জানান, এতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তার পরই বেঞ্চ শুনানি পিছিয়ে ২৭ অক্টোবর বিকেল ৩টেয় ধার্য করে।

মুম্বইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে একটি প্রতিবাদস্থল থেকে অন্যদের সঙ্গে ইমরান খানকেও আটক করেছিল পুলিশ। প্রতিবাদে যোগ দিয়ে তিনি অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫ লঙ্ঘন করেছেন—এই অভিযোগে ১৪ অক্টোবর তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়।

১৯ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত এম শেঠনার বেঞ্চে আবেদনটির উল্লেখ করা হলে, আদালত ২৬ অক্টোবর শুনানিতে সম্মত হয়েছিল।

এর আগে ধোন্ড যুক্তি দিয়েছিলেন, ইমরান খান মাত্র দু’বছর বয়স থেকে ভারতে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে কোনও অপরাধে জড়িত থাকার নজিরও নেই।

১৭ অক্টোবর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস বা এফআরআরও ইমরানকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। তাতে জানানো হয়, ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া বা ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে তাঁর নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে। এরপরই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা। এই পদক্ষেপকে তিনি “অসাংবিধানিক, স্পষ্টতই স্বেচ্ছাচারী এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে চ্যালেঞ্জ করেন।

ভারত ছাড়ার নোটিস বা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’ বাতিল করার নির্দেশ চাওয়ার পাশাপাশি, দেশ থেকে বহিষ্কার-সহ যে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও চেয়েছেন ইমরান।

ইমরানকে আটকের পর বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া তাঁর বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ একটি “অপ্রমাণিত” এফআইআর পাঠানোর পরই এফআরআরও ওই নোটিস জারি করে।