বাংলাস্ফিয়ার: ব্যারিকেড, বিপুল পুলিশবাহিনী এবং আটকের মধ্যেও রাজধানীর কনট প্লেসে পৌঁছল সিজেপির তিরঙ্গা মিছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার জাতীয় পতাকা হাতে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ঘিরে কনট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় দিনভর ছিল কড়া নিরাপত্তা। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরাসহ শতাধিক মানুষকে আটক করে পুলিশ।

সিজেপি বিকেল পাঁচটায় সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল। তার আগেই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি পুর পরিষদ। পুলিশকে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে বলা হয়। ফলে নির্ধারিত জায়গায় ঢুকতে না পেরে পার্কের বিপরীতে এবং পালিকা বাজারের কাছে জাতীয় পতাকা নিয়ে জড়ো হন অনেকে।

কর্মসূচির আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ছয় হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের খবর পাওয়া যায়। নজরদারির জন্য বসানো হয় অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫টি ক্যামেরা। কনট প্লেস এবং আশপাশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। পুলিশের বক্তব্য, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি রক্ষাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছিল, উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করা গেলে বিধি মেনে এগারোজনকে জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনার সঙ্গেও স্থান নির্বাচন এবং প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার শর্ত জুড়ে ছিল।

বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট নাগাদ করোলবাগের বাড়ি থেকে বেরোতেই দীপকেকে আটক করা হয়। তিনি পুলিশের কাছে জানতে চান, একা বেরোনোর পরেও কেন তাঁকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশভ্যানে তোলার আগে তিনি জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন। অন্যদিকে, মাণ্ডি হাউস থেকে সমর্থকদের নিয়ে মিছিল শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আটক হন নেহা বোরা।

নেতাদের আটক করা হলেও বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিবাদকারীরা কনট প্লেসে পৌঁছন। সন্ধ্যায় এসএফআই ও অন্য বাম ছাত্রসংগঠনের কর্মীরাও মিছিল করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাস। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় আটকের পদক্ষেপ করা হয়েছে।

প্রতিবাদে যোগ দেওয়া তরুণদের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাশাপাশি উঠে আসে কর্মসংস্থান, মণিপুর এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রসঙ্গ। গাজিয়াবাদের উদিত জাতীয় পতাকা হাতে প্রশ্ন তোলেন, নিজের দেশের পতাকা নিয়ে পথে দাঁড়ানো কেন অপরাধ হিসেবে দেখা হবে। গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘিরে এত বাহিনী মোতায়েন তাঁকে বিচলিত করেছে বলে জানান তিনি।

মণিপুরের বাসিন্দা, বর্তমানে গুরুগ্রামে কর্মরত বাইশ বছরের ইয়াসিরা নিজের রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উত্তর-পূর্বের মানুষকে ঘিরে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের অভিজ্ঞতাও জানান তিনি। ভোপালের শিবম বলেন, সমাজমাধ্যমে ভিডিও দেখেই মিছিলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষের একত্র হওয়া প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশের ছাত্র সোনু যাদবের বক্তব্যে উঠে আসে বেকারত্বের কথা। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই শিক্ষা, ওষুধসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করেন বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।

এদিকে উৎসবের মরসুমে ব্যবসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাভাবিক কেনাবেচাও চালু রাখা প্রয়োজন। শুক্রবার বিকেল থেকে যান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কায় আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিল ট্র্যাফিক পুলিশ। পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে জানিয়ে সম্ভব হলে গণপরিবহণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে কর্তব্যরত কর্মীদের নির্দেশ মানতেও বলা হয়েছিল।

দীপকে ও বোরার আটকের প্রতিবাদে সরব হয় একাধিক বিরোধী দল। তাঁদের মুক্তির দাবি ওঠে। শুক্রবারের ঘটনাপ্রবাহে তাই কমিশনবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে যায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ এবং পুলিশি নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়ে বিতর্কও।