বাংলাস্ফিয়ার: নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের এক সম্মেলন থেকে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মন্তব্য, বিজেপি–আরএসএস আসলে ‘এক দল জোকার’, যাদের ভারতের ইতিহাস, দর্শন ও বহুত্ববাদী চরিত্র সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। পাল্টা আক্রমণে বিজেপি রাহুলকে ‘অহংকারী, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরিণত’ নেতা বলে অভিহিত করেছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘রচনাত্মক কংগ্রেস জাতীয় সম্মেলনে’ ভাষণ দিচ্ছিলেন রাহুল। বিজেপি–আরএসএসের রাজনীতিকে ‘উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া শৃঙ্খলা’ বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য দেশের মানুষের স্বাধীন অভিব্যক্তিকে দমন করা। কংগ্রেসের কাজ হল সেই চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে ভারতকে নিজের কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া।

রাহুলের কথায়, “ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ থাকতে পারে। কিন্তু এখানে লড়াইটা এমন এক দল জোকারের বিরুদ্ধে, যারা আমাদের দর্শন বা ইতিহাস কিছুই বোঝে না। এরা এক দল ভাঁড়।” তিনি দাবি করেন, বর্তমান ভারতকে এবং তার মানুষের অভিব্যক্তিকে না বুঝলে কয়েক হাজার বছর আগের ভারতকেও বোঝা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশনীতি নিয়েও বিদ্রুপ করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ধারণা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের আলিঙ্গন করাই বিদেশনীতি। মঞ্চে রচনাত্মক কংগ্রেসের প্রধান সন্দীপ দীক্ষিতকে আলিঙ্গন করে মোদীর কূটনীতিকে ব্যঙ্গও করেন তিনি। রাহুলের প্রশ্ন, “বিদেশনীতি মানেই নেতাদের জড়িয়ে ধরা—এই ধারণা তিনি কোথা থেকে পেলেন?”

আরএসএসের বর্তমান ভূমিকার সমালোচনা করে রাহুল দাবি করেন, সংগঠনটির আদি চরিত্র আর অবশিষ্ট নেই। এক সময়ে ছোট ব্যবসায়ী, স্বর্ণকার ও বণিকদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করলেও এখন সঙ্ঘ বৃহৎ পুঁজির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আদানি ও অম্বানীর নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, নোটবন্দির মাধ্যমে আরএসএস নিজের পুরনো সামাজিক ভিত্তিকেই ধ্বংস করেছে। তবে সঙ্ঘের মতপ্রকাশের অধিকার বিপন্ন হলে তিনি তাদেরও রক্ষা করবেন বলে জানান।

রাহুলের আক্রমণের জবাবে বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, বিরোধী দলনেতার কথাবার্তায় দায়িত্ববোধের বদলে ‘অহংকার ও অধিকারবোধ’ প্রকাশ পাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের বাদল অধিবেশন অচল করেছেন এবং সরকারের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেননি। তাঁকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, অপরিণত ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারহীন’ বলেও আক্রমণ করেন প্রসাদ।

বিজেপির অন্য নেতাদের কটাক্ষ, রাহুলকে বিরোধী দলনেতার চেয়ে ‘ব্যর্থ হাস্যকৌতুকশিল্পী’ বলেই বেশি মনে হচ্ছে। মোদীকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা ভোটারদেরও তিনি অপমান করছেন বলে অভিযোগ শাসকদলের। ফলে রাহুলের ‘জোকার’ মন্তব্যকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধ আরও তীব্র হল।