বিহারের সরকারি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের পোশাক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে কড়া নির্দেশ জারি করল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। পাঠদান ও অফিসের সময়ে জিনস এবং টি-শার্ট পরে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবর্তে সকলকে ‘মর্যাদাপূর্ণ আনুষ্ঠানিক পোশাক’ পরতে হবে। পাশাপাশি স্কুল চত্বরে ডিজে, ডিস্কো এবং ‘অশালীন বা নিম্নমানের’ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের উপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে।

শিক্ষা দফতরের অধিকর্তা বিজয় কুমার পাণ্ডে ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর এই নির্দেশ জারি করেন। রাজ্য পরিচালিত সমস্ত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের এর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে পোশাকসংক্রান্ত বিধি কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকারী শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অন্য কর্মীদেরও কর্মসময়ে একই নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের পাঠদান ও অফিসের সময়ে শুধুমাত্র মর্যাদাপূর্ণ আনুষ্ঠানিক পোশাকে উপস্থিত থাকতে হবে। এই নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে এবং তা কার্যকর করতে হবে।” অর্থাৎ, পোশাক নিয়ে দফতরের বক্তব্য নিছক পরামর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে তা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

পোশাকের পাশাপাশি স্কুলের ভিতরে কী ধরনের বিনোদন বা সাংস্কৃতিক আয়োজন করা যাবে, সে বিষয়েও সীমারেখা টেনেছে শিক্ষা দফতর। নির্দেশে নাচ, ডিজে সাউন্ড সিস্টেম, ডিস্কো এবং অন্যান্য ‘অশালীন বা নিম্নমানের’ অনুষ্ঠানের উল্লেখ রয়েছে। স্কুল প্রাঙ্গণে এই ধরনের আয়োজন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অনুষ্ঠান পরিচালনার ধরন ও পরিবেশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই নির্দেশের এই অংশের মূল বিষয়।

তবে নাচগান-সহ সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। নির্দেশিকাতেই অনুমোদিত অনুষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট অবকাশ রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “শিক্ষাবর্ষের কর্মসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত দিনগুলিতে আয়োজিত শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং মর্যাদাসম্মত নৃত্য, সংগীত প্রভৃতির অনুষ্ঠানই কেবল অনুমোদিত।” ফলে কোনও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে সময় এবং উপস্থাপনার ধরন—দু’টিই বিবেচ্য হবে।

এই শর্ত অনুযায়ী, স্কুলে অনুষ্ঠান করতে হলে তা শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে দফতরের বর্ণিত শৃঙ্খলা ও মর্যাদার মানদণ্ডও মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র নাচ বা গানের অনুষ্ঠান বলেই কোনও আয়োজন নিষিদ্ধ হবে, এমন কথা নির্দেশিকার উদ্ধৃত অংশে বলা নেই। বরং অনুমোদিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নিষিদ্ধ বিনোদনের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে।

পোশাকের বিধানটি বিশেষভাবে পাঠদান ও অফিসের সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্দেশটির প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় শিক্ষক ও কর্মীদের উপস্থিতি। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের পোশাক সম্পর্কে উদ্ধৃত নির্দেশে কোনও কথা নেই। একইভাবে, অনুষ্ঠানসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্র হিসেবে স্কুল চত্বরের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। এই দু’টি ক্ষেত্র আলাদা করে বোঝা নির্দেশটি ব্যাখ্যা করার জন্য প্রয়োজনীয়।

তবে ‘মর্যাদাপূর্ণ আনুষ্ঠানিক পোশাক’ বলতে ঠিক কোন কোন পোশাক বোঝানো হচ্ছে, তার বিস্তারিত তালিকা সরবরাহ করা বিবরণে নেই। জিনস ও টি-শার্ট নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও অন্য পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পৃথক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একইভাবে ‘অশালীন’ কিংবা ‘নিম্নমানের’ অনুষ্ঠান চিহ্নিত করার সুনির্দিষ্ট মাপকাঠিও উদ্ধৃত অংশে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

নির্দেশ অমান্য করলে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সম্পর্কেও প্রাপ্ত বিবরণে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাই এই নির্দেশের ভিত্তিতে জরিমানা, বেতন কাটা বা চাকরিসংক্রান্ত কোনও শাস্তির কথা বলা যাচ্ছে না। শিক্ষক সংগঠন কিংবা অশিক্ষক কর্মীদের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়াও সরবরাহ করা তথ্যে নেই। আপাতত দফতরের ঘোষিত বিধান এবং সেটি কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশটুকুই স্পষ্ট।

নতুন নির্দেশে বিহারের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পোশাক এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে দুটি পৃথক বাধ্যবাধকতা তৈরি হল। কর্মসময়ে নির্ধারিত পোশাকবিধি মানতে হবে; আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে রাখতে হবে শিক্ষাবর্ষের সূচি, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার শর্তের মধ্যে। প্রতিষ্ঠানগুলির দৈনন্দিন কাজকর্মে এই বিধান কার্যকর করার দায়িত্বও নির্দেশের মধ্যেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।