বাংলাস্ফিয়ার: রাজধানীতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই শনিবার শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁকে শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। একই দিনে মুক্তি পেয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা। অন্যদিকে, আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের সমাবেশের জন্য অনাপত্তিপত্র দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

শুক্রবার কনট প্লেসে সিজেপির ডাকা ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝান্ডেওয়ালানের বাড়ি থেকে বেরোনোর পরই দিপকেকে আটক করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, ১০ অক্টোবরের ঘটনার পরে দেওয়া শান্তিরক্ষার মুচলেকার শর্ত তিনি ভেঙেছেন। সেই অভিযোগে শনিবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে তিনি শর্তসাপেক্ষ জামিন পান।

পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, শুক্রবার কর্মসূচির আগেই দিপকেকে দু’টি নোটিস দেওয়া হয়েছিল। একটিতে কনট প্লেসের আশপাশে মিছিল বা জমায়েত করতে নিষেধ করা হয়। অন্যটিতে আগের মুচলেকার শর্ত মনে করানো হয়। এর আগে দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করার পরে প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকার জামিনদারি বন্ড এবং এক বছর শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পিটিআইকে এক পুলিশকর্তা জানান, মুচলেকায় দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁকে ছাড়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত শর্ত জানার জন্য তখনও লিখিত নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল পুলিশ। থানার আশপাশেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয় ওই দিন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবারের কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ছিল। তা সত্ত্বেও কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের আশপাশে আনুমানিক দু’হাজার মানুষ জড়ো হন। অনেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা। শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। দিপকেকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই আটক করা হয়েছিল।

নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছিল মণ্ডি হাউস থেকে কনট প্লেসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করার সময়। শনিবার সকালে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির পরে তিনি অভিযোগ করেন, সারা রাত, ভোর পাঁচটা পর্যন্ত তাঁকে থানায় রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, এভাবে আটক করা বেআইনি। আইন মেনে কাজ করার পুলিশের দাবিও তিনি প্রশ্নের মুখে তোলেন। পুলিশের বক্তব্য, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আটকের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেই তাঁকে ছাড়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সমাবেশের ছাড়পত্রের কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। অনাপত্তিপত্রটি ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছে; মূল সভা হবে ১ নভেম্বর। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বিঘ্নে সমাবেশ পরিচালনার জন্য আয়োজক, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় চলছে। ফলে সভার প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা একই সঙ্গে এগোবে।

সেন্ট্রাল জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রোহিত রাজবীর সিংহ জানিয়েছেন, কংগ্রেস প্রথমে দিল্লি পুরনিগমের কাছে মাঠের প্রাপ্যতা জানতে চেয়েছিল। পুরনিগম নির্দিষ্ট সময়সীমায় মাঠ খালি থাকার কথা জানালে দল পুলিশের কাছে যায়। আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার প্রয়োজন বিচার করার পর অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। সেটি পুরনিগমে জমা দিয়ে পরবর্তী প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্য আয়োজকেরাও একই পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ১২ অক্টোবর যন্তরমন্তরের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের মর্যাদা প্রত্যাহার করে দিল্লি পুলিশ। পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট গত মাসেই রাজধানীতে বড় সমাবেশের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। সেই কর্মসূচির জন্য এবার পুলিশের ছাড়পত্র মিলল।