নয়াদিল্লি, ১৮ অক্টোবর: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের জনসভার অনুমতি দিল দিল্লি পুলিশ। আগামী ১ নভেম্বর এই সমাবেশ হবে। শনিবার পুলিশের ছাড়পত্র মেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাজধানীতে বড় জমায়েতের পথ খুলল। কংগ্রেসের পাশাপাশি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কাছেও এই অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।

দিল্লি পুলিশের মধ্য জেলার ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানিয়েছেন, রামলীলা ময়দানের প্রাপ্যতা জানতে প্রথমে দিল্লি পুরনিগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কংগ্রেস। পুরনিগম জানায়, ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মাঠটি বুকিংয়ের জন্য পাওয়া যাবে। সেই সংক্রান্ত নথি নিয়ে দল পুলিশের কাছে যায়। আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিবেচনা করে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনাপত্তিপত্র পুরনিগমে জমা দিয়ে পরবর্তী প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে কংগ্রেস। মাঠটির দায়িত্ব পুরনিগমের হাতে। অন্য কোনও সংগঠনও সেখানে কর্মসূচি করতে চাইলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন ডিসিপি। অর্থাৎ, মাঠ ব্যবহারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পুরনিগমের কাছে প্রাপ্যতা যাচাই এবং পুলিশের অনুমোদন, উভয় ধাপই রয়েছে।

ছাড়পত্রে ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরের সময়সীমা থাকলেও কংগ্রেসের ঘোষিত জনসভা ১ নভেম্বর। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সভা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য আয়োজক, ট্র্যাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে। ফলে অনুমতির পাশাপাশি জমায়েতের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগোচ্ছে।

এই অনুমতির পটভূমিতে রয়েছে রাজধানীর প্রতিবাদস্থল নিয়ে চলতি বিতর্ক। ১২ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ যন্তরমন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে। পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিকল্প স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। প্রতিবাদ কোথায় করা যাবে এবং সেই স্থান থেকে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য কতটা পৌঁছবে, মামলায় সেই প্রশ্নও উঠেছে।

কংগ্রেসের এই জনসভা বিরোধীদের বৃহত্তর ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ আগে জানিয়েছিলেন, ১০ থেকে ২০ অক্টোবর মিছিল ও জনসভা হবে। জেলা ও গ্রামের স্তরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের পুনর্নথিভুক্তিতে সাহায্য করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ১ নভেম্বরের সভায় অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রমেশের ঘোষণা অনুযায়ী, নভেম্বরের ২৫-২৬ তারিখ থেকে রাজধানীর কাছাকাছি ছয়টি জায়গা থেকে যাত্রা শুরু হয়ে দিল্লিতে পৌঁছবে। এই কর্মসূচির নাম ‘চলো দিল্লি’। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার বিরোধীদের রাস্তার আন্দোলনকে ‘অরাজকতা’ বলে আক্রমণ করেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। ফলে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ভোটার তালিকার প্রশ্নের সঙ্গে সরকার ও বিরোধীদের রাজনৈতিক সংঘাতও জড়িয়ে গিয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ আদালতের বিচারাধীন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের কাছে জবাব চেয়েছে। ভোটার নথিভুক্তির ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়েও নোটিস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যন্তরমন্তরের স্বীকৃতি প্রত্যাহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে আদালত। বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে বেঞ্চ।

এই পরিস্থিতিতে রামলীলা ময়দানের সভা বিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। অনুমোদিত স্থানে বড় জমায়েতের সুযোগ পাওয়ায় কংগ্রেসের সামনে এখন সংগঠনকে সক্রিয় করা এবং শরিকদের এক মঞ্চে আনার কাজ। তবে অনুমতি পাওয়া আর বিরোধীদের অভিযোগের নিষ্পত্তি এক বিষয় নয়। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ, কমিশনের জবাব এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিজের গতিতে চলবে। নজর থাকবে সভায় অংশগ্রহণের পরিসরেও।