সোমনাথ মন্দিরের ৫০০ মিটারের মধ্যে আমিষ খাবার ও ডিম রান্না, বিক্রি এবং মজুতের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে গুজরাত হাই কোর্ট যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, শুক্রবার তাতে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, হাই কোর্টে বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি সম্ভব হলে দু’মাসের মধ্যে করা হোক।
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি বরালের বেঞ্চ তাজ রেস্তরাঁ-সহ কয়েকটি খাবারের দোকানের দায়ের করা আবেদনের শুনানি করছিল। তাজ রেস্তরাঁর মালিক আকিব আমিনভাই খান গির সোমনাথের জেলাশাসকের জারি করা এই বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। ১০ অগস্টের ওই বিজ্ঞপ্তিতে ভেরাভল তালুকের প্রভাস পাটনের নির্দিষ্ট কয়েকটি রাস্তা-সংলগ্ন এলাকা ও জনপদকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
গত ৩০ অক্টোবর গুজরাত হাই কোর্টের একক বেঞ্চ জেলাশাসকের বিজ্ঞপ্তিটি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, গুজরাত পুলিশ আইন, ১৯৫১-তে প্রশাসনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা তার সীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি, এটি সংবিধানের ১৯(১)(জি) অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যবসা করার মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘন করে।
কিন্তু ওই দিনই হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মানস রঞ্জন পাঠক এবং বিচারপতি নির্ঝর এস দেশাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ১০ অগস্টের বিজ্ঞপ্তিটি কার্যকর থাকবে।
রেস্তরাঁ মালিকদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী হুজেফা আহমদি। তাঁর বক্তব্য, আমিষ খাবার বিক্রির উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষমতা গুজরাত পুলিশ আইন প্রশাসনকে দেয়নি। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট খাবারের দোকানগুলি ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে আইন মেনেই ব্যবসা করছে। দীপাবলির উৎসবের মরসুমে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকলে তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেওয়ার এত তাড়া কেন, শুনানিতে তা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। জবাবে রেস্তরাঁ মালিকদের আইনজীবী জানান, উৎসবের মরসুম চলায় বিষয়টি তাঁদের কাছে বিশেষ জরুরি হয়ে উঠেছে।
গুজরাত সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা নিষেধাজ্ঞার সমর্থনে সওয়াল করেন। তিনি আদালতকে বলেন, নিষিদ্ধ এলাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি আমিষ খাবার পরিবেশন করতে পারে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর গুজরাত হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে সুপ্রিম কোর্ট। পরিবর্তে, বিচারাধীন আপিলগুলি সম্ভব হলে দু’মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাই কোর্টকে বলে শীর্ষ আদালত। শুনানির সময়ে এই বিরোধ মেটাতে একটি ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
গুজরাত পুলিশ আইন, ১৯৫১-এর বিভিন্ন ধারার অধীনে মূল বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছিল। তাতে সোমনাথ মন্দিরের ৫০০ মিটারের মধ্যে পড়া নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে আমিষ খাবার ও ডিম রান্না, বিক্রি এবং মজুত নিষিদ্ধ করা হয়। রেস্তরাঁ মালিকদের অভিযোগ, এই বিধিনিষেধ তাঁদের বৈধ ব্যবসা চালানোর অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। অন্য দিকে, মন্দিরের ধর্মীয় গুরুত্ব এবং বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সম্ভাব্য সমাগমের কথা তুলে ধরে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে রাজ্য সরকার।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।