বাংলাস্ফিয়ার : উৎসবের মরসুমে মিষ্টির চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যেই দিল্লিতে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে ধ্বংস করা হল ৯০০ কেজির বেশি ভেজাল ও নষ্ট মিষ্টি এবং মিষ্টি তৈরির উপকরণ। ভেজাল, পচা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার যাতে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে পরিদর্শন ও নজরদারি জোরদার করেছে দফতর।

এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযানের দু’টি জায়গা থেকেই পরীক্ষাগারে পাঠানোর জন্য খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য এবং পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে খাদ্য সুরক্ষা ও মানদণ্ড আইন, ২০০৬ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের দফতর জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা বিভাগকে আচমকা পরিদর্শন, নিয়মিত নজরদারি এবং নমুনা পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খাদ্য সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেও বলেছেন তিনি।

শনিবার নিহাল বিহারে লাইসেন্সবিহীন রসগোল্লা তৈরির কারখানা, অন্যান্য মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং মিষ্টির দোকান মিলিয়ে মোট ১৩টি জায়গায় পরিদর্শন করেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কর্মীরা। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযানে প্রায় ৪০২ কেজি খাদ্যসামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ২৬৫ কেজি রসগোল্লা, ৪৫ কেজি ছানা, ৮০ কেজি মিল্ক কেক এবং ১২ কেজি নারকেল কোরা।

পাশাপাশি পরীক্ষার জন্য ছানা, মিল্ক কেক, রসগোল্লা, মতিচুরের লাড্ডু, আটার লাড্ডু, রসভরি এবং পনিরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এর আগে ২৬ আগস্ট ওই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে মিষ্টি তৈরির কারখানাগুলির সন্ধান পেতে সমস্যায় পড়েছিল দফতর। সেই সময় বিভিন্ন গলিতে থাকা দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন মিষ্টি প্রস্তুতকারকেরা। ফলে আধিকারিকেরা মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেয়েছিলেন। এ বার আগাম খবর পৌঁছে যাওয়া ঠেকাতে ছুটির দিনে আচমকা অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন গলিতে নামানো হয় একাধিক পরিদর্শক দল।

অন্য দিকে, মোরি গেট খোয়া মান্ডিতে পৃথক অভিযানে প্রায় ৩৭০ কেজি ক্ষীর বা খোয়া এবং ১৫০ কেজি ছানা ধ্বংস করেন আধিকারিকেরা। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, খাদ্যসামগ্রীগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেগুলি পচে গিয়েছিল এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

এর আগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ৪ সেপ্টেম্বর একই বাজারে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। সে বার প্রায় ৩,০৫০ কেজি খোয়া ও পনির ধ্বংস করা হয়েছিল।

আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, উৎসবের গোটা মরসুম জুড়েই এই অভিযান চলবে।