বাংলাস্ফিয়ার: টাইগার শ্রফের উপর হামলার আগে বন্দুকবাজদের মূল লক্ষ্য ছিলেন আমির খান। কিন্তু বারবার নজরদারি চালিয়েও তাঁর কাছে পৌঁছনোর সুযোগ না মেলায় পরিকল্পনা বদলায়। পুলিশসূত্রের দাবি, তুলনায় সহজে নাগাল পাওয়া যাবে বলেই টাইগারকে বেছে নেওয়া হয়।
তদন্তসূত্রের বক্তব্য, অভিযুক্ত ফুল সিংহ ও রেহান আনসারি ২০ সেপ্টেম্বর হরিয়ানা থেকে মুম্বই আসে। আমিরের বাড়ির আশপাশে অন্তত তিনবার ঘুরে দেখে তারা। কিন্তু অভিনেতা কখনও শুটিংয়ে বাইরে, কখনও বাড়িতে থাকলেও কয়েক দিন বেরোতেন না। সেপ্টেম্বরের শেষে অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগের পরে লক্ষ্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে টাইগারকে নিশানা করা চূড়ান্ত হয়।
টাইগার নিয়মিত রবিবার জুহুর পুষ্পা নার্সি পার্কে ফুটবল খেলতে যেতেন। সেই পার্কেই ১৮ অক্টোবর হামলা হয়। পুলিশসূত্র আমিরকে নিশানা করার সঙ্গে জুলাইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আসা হুমকির সম্ভাব্য যোগ দেখছে। তবে অভিযুক্তেরা উদ্দেশ্য জানত না বলে দাবি করেছে। আমিরকে প্রথম লক্ষ্য করার বিষয়ে পুলিশের ডিসিপি রাজ তিলক রৌশন সংবাদপত্রটির প্রশ্নের উত্তর দেননি।
এই নতুন তথ্যের আগে তদন্তকারীরা অন্য তারকাদের বাড়িতে অভিযুক্তদের যাতায়াতের কারণ খতিয়ে দেখছিলেন। ২২ অক্টোবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল, মুম্বইয়ে প্রায় এক মাস থাকার সময়ে তারা আমির, সলমন খান ও রণবীর সিংহের আবাসনের কাছে গিয়েছিল। তখন পুলিশের কাছে স্পষ্ট ছিল না, প্রত্যেকেই সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিলেন, নাকি তারকাদের বাড়ি দেখার কৌতূহল থেকে ওই যাতায়াত।
অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, অমৃতসর থেকে সংগ্রহ করা আগ্নেয়াস্ত্র দিল্লি হয়ে মুম্বইয়ে আসে। রাধা বর্মা ও ববিতা রাও নামে দুই মহিলা সেটি বন্দুকবাজদের হাতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি বলে তদন্তকারীদের দাবি। অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহণ এবং হামলাকারীদের সাহায্য করার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়া চার জনের মধ্যে ওই দুই মহিলা ছাড়াও কুণাল সঞ্জয় ও সুমিত সুরাহা ছিলেন। অস্ত্রটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা ছিল, যাতে এক দল ধরা পড়লে অন্য দলের পরিচয় সহজে প্রকাশ না পায়।
অন্যদিকে, অঙ্কিত নামে এক অভিযুক্ত মুম্বইয়ে নজরদারিতে সাহায্য করেছিল এবং অনিল পণ্ডিতের কাছ থেকে বন্দুকবাজদের কাছে টাকা পৌঁছনোর ব্যবস্থায় যুক্ত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হামলাকারীদের জন্য প্রায় দু’লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। রেহানের সঙ্গে পণ্ডিতের যোগাযোগ তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমীর নামে আর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
হামলার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয় বলিউডের কয়েক জন পরিচিত মুখের। সলমন খান ও পরিচালক রোহিত শেট্টির বাড়ির বাইরে অতিরিক্ত পুলিশের গাড়ি মোতায়েন করা হয়। আমিরের বান্দ্রার বাড়ির কাছেও টহল বাড়ে। টাইগারকে পুলিশি সুরক্ষা দেওয়া হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২০ অক্টোবরের খবর অনুযায়ী, হামলার আগে কোনও হুমকি পাওয়ার লিখিত অভিযোগ টাইগারের তরফে পুলিশের কাছে ছিল না।
ঘটনার পরদিন রাজস্থানের কোটায় ট্রেন থেকে তিন অভিযুক্তকে ধরা হয়। পুলিশের বক্তব্য, টাকা এবং বিদেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাজে নামানো হয়েছিল। হামলার পরে দিল্লি হয়ে নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন। অনিল পণ্ডিতের নামে প্রচারিত একটি অডিয়ো বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করা হয়; সেখানে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সঙ্গে যোগের দাবিও ছিল।
পুলিশের একাংশের ধারণা, কোনও তারকার উপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক প্রচার পাওয়া এবং চলচ্চিত্রজগতে ভয় ছড়িয়ে তোলাও এই ধরনের অপরাধের উদ্দেশ্য। সেই ভয়কে কাজে লাগিয়ে তোলাবাজির পথ তৈরি করা সম্ভব। তবে দায় স্বীকারের বার্তা, অভিযুক্তদের জবানবন্দি এবং অপরাধচক্রের প্রকৃত ভূমিকা এক বিষয় নয়। তদন্তে পাওয়া দাবিগুলিকে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করাই এখন পুলিশের সামনে মূল কাজ।