নওগাঁয় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৪ কেজি গাঁজা, একটি চোরাই ভ্যান এবং চোর চক্রের দুই সদস্যসহ মোট ছয়জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একইসঙ্গে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিকদের হাতে সফলভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সাফল্যের কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
২৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ৪ মাদক কারবারি
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মান্দা থানা এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান মজুদ রয়েছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবির একটি দল রঘুনাথপুর এলাকার আরিফ হোসেনের (৩০) বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায়। এ সময় তার ঘরের স্টিলের ট্রাংক তল্লাশি করে ২০ কেজি গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে ধৃত আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মোশাররফকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যার কাছ থেকে আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এরপর মোশারফের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে বদলগাছী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শিলং (২৩) ও আরাফাত (২৩) নামের আরও দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। তাঁদের হেফাজত থেকেও উদ্ধার করা হয় দুই কেজি গাঁজা। সব মিলিয়ে এই ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২৪ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
চোরাই ভ্যান উদ্ধার ও চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
অন্যদিকে, গত ২৬ নভেম্বর বাহাদুর নামের এক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন যে, মধু বিক্রির কথা বলে প্রতারক চক্র নওগাঁ শহরের গোস্তহাটি এলাকা থেকে তার জীবিকার একমাত্র সম্বল ভ্যানটি ভাড়ায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চালককে কৌশলে সরিয়ে তারা ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয়।
এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নাটোর জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোরাই ভ্যানসহ চোর চক্রের মূলহোতা মো. সালাম (৪৮) এবং তার ছেলে মো. নয়নকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
৫১৭টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের ফেরৎ
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও জানান, শুধু মাদক ও চোর চক্র দমনই নয়, গত এক মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা খোয়া যাওয়া মোট ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাদক, চোরাকারবারি এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ সুপার। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।