দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষের জেরে মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অসন্তোষের মুখে রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ৫২৯টি পোশাক কারখানা থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এর ফলে প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া এবং রাজধানীর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকার অন্তর্গত মিরপুর শিল্পাঞ্চলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে।
শিল্প পুলিশ ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রধান ৫টি শিল্পাঞ্চলের মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার তথ্য পর্যালোচনা করে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫২৯টি কারখানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল। সেখানে মোট ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২৭৬টি কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। ফলে ওই অঞ্চলেই প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
অন্যদিকে, সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ১৮৫টি কারখানা শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে কাজে যোগ দেননি ২ লাখ ৯০ হাজার ২০৫ জন শ্রমিক। রাজধানী ঢাকার ডিএমপি এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে এবং এই বন্ধ থাকা কারখানাগুলির সমস্তই মিরপুর এলাকায় অবস্থিত। এখানে ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক কাজে অনুপস্থিত ছিলেন।
তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা কাজ বন্ধের খবর পাওয়া যায়নি। এই দুই অঞ্চলের উৎপাদনে স্বাভাবিক গতি বজায় ছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫টি শিল্পাঞ্চল মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি খোলা থাকলেও, ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বিপুলসংখ্যক শ্রমিক হঠাৎ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় আকারের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিক ও অর্থনীতিবিদরা।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।