
বুদ্ধং শরণং (পর্ব-১৫)
ক্রমাগত অপমান সহ্য করতে না-পেরে ২০০৫-এর অক্টোবরে স্টার আনন্দ থেকে ইস্তফাই দিয়ে দিলাম। ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি রাগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে নেই,
পশ্চিমবঙ্গযাচাইকৃত তারিখ পাওয়া যায়নিকলকাতা · বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ঢাকা · সংশোধিত ক্যালেন্ডার
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকা-উৎস ↗
ক্রমাগত অপমান সহ্য করতে না-পেরে ২০০৫-এর অক্টোবরে স্টার আনন্দ থেকে ইস্তফাই দিয়ে দিলাম। ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি রাগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে নেই,

আমার থমথমে চোখ-মুখ দেখে বুদ্ধদেববাবু বুঝতে পারলেন কোথাও একটা বড় কিছু গন্ডগোল হয়ে গিয়েছে। ডিসক্রিশন ইজ দ্য বেটার পার্ট অব ভেলর, বুঝেও তাই তিনি মন্তব্য করলেন না।

জ্যোতি বসু কমিউনিস্ট ছিলেন, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন করেছেন, জীবনের একটা সময় দারুণ কৃচ্ছ্রসাধন করেছেন, সবই ঠিক।

লন্ডন ছিল জ্যোতি বসুর ‘সেকেন্ড হোম’, ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে সেখানে তিনি অনেকগুলো বছর কাটিয়েছিলেন, হ্যারি পলিট বা রজনী পাম দত্তর মতো গুরু-দর্শনও হয়েছিল সেখানেই।

নিজেকে বদলে ফেলার কাজটা আদৌ সহজ নয় এটা যেমন সত্যি তেমনি একই রকম সত্যি এই প্রবাদটিও যে স্বভাব যায় না মলেও।

আমি যা উচিত বলে মনে করি সেটাই বলি, যেটা আমার কর্তব্য বলে মনে করি সেটাই করার চেষ্টা করি। আমাকে যদি এক লাইনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের চরিত্রায়ন করতে হয়,

পার্থ ভট্টাচার্য বাজে কথা বলার মানুষ ছিলেন না। তবু কখনও সখনও কোনও একটা খবর শুনলে প্রাথমিক ভাবে মনে হয়, এ অসম্ভব, হতেই পারে না। আমার বাধো বাধো ভাব দেখে পার্থবাবু বললেন,

আলিপুরের ভবানী ভবনে পৌঁছে আর্দালি মারফৎ খবর পাঠাতেই পার্থ ভট্টাচার্য সঙ্গে সঙ্গে আমাকে নিজের ঘরে ডেকে নিলেন। প্রশস্ত ঘর,

তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জ্যোতি বসু কেবল একবারই আনন্দবাজারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন। রশিদ খানের পয়সায় তিনি বিলেত গিয়েছেন, প্রথম পাতায় এই মর্মে একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে।

পার্থ ভট্টাচার্য। সম্পর্কে বোধহয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের তুতো ভাই। কর্মজীবনে এর জন্য তিনি বাড়তি কোনও সুবিধে পেয়েছেন বলে শুনিনি, তাঁর প্রয়োজনও হয়নি। কেন না পার্থবাবু নিজেই ছিলেন আইপিএস, সুদক্ষ পুলিশ অফিসার।

খারিজি মাদ্রাসার ক্ষেত্রেই শুধু নয়, তার আগেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে অন্য একটি বিষয়ে দু’পা এগিয়ে চার পা পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। সংগঠিত সন্ত্রাস রুখতে আইন প্রনয়ণ।

‘ভুল যখন করেছো, তখন সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করো।’ বক্তার নাম জ্যোতি বসু। উপদেশ দিচ্ছেন যাঁকে, তাঁর নাম বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। রাজ্য বামফ্রন্টের জরুরি বৈঠকে। সংখ্যালঘু বিক্ষোভে রাজ্য তখন উত্তাল, হঠাৎই স্বখাত সলিলে পড়ে গিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০২-এর ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা।