বাংলাস্ফিয়ার: “তিরিশ বছর ধরে কয়েকটা বাসা খুঁজে পেয়েছি, তাতে বড়জোর দশটা ডিম — কিন্তু এখানে অন্তত একশোটা আছে, সম্ভবত আরও অনেক বেশি!” উত্তেজনা চাপতে পারছিলেন না আলাঁ কাবো। দক্ষিণ ফ্রান্সের মেজ শহরে তাঁর একটি ডাইনোসর জাদুঘর আছে। ভূতত্ত্ববিদ ও জীবাশ্মবিজ্ঞানী এই মানুষটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজের ছয় হেক্টর জমিতে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছিলেন। এত বড় কিছু পাবেন, ভাবেননি।
গ্রীষ্মের শেষে এমন একটি জায়গায় কিছু ডিমের খোলার টুকরো চোখে পড়ে, যেখানে আগে কেউ ভালো করে খোঁজেনি। প্রথমে একটি বাসা মিলল, তবে গাছের শিকড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। একটু গভীরে যেতেই বেরিয়ে এল সারি সারি ডিম — এমন দৃশ্য আগে কেউ দেখেনি। মাটি কাদাময় বলে কাজ সহজ ছিল না, তবু খনন চলেছে। পাশের আরও পঞ্চাশ বর্গমিটার জায়গাও একইরকম সমৃদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন কাবো।
ফ্রান্সের প্রভেন্স অঞ্চল ১৯৪০-এর দশক থেকেই জীবাশ্মবিজ্ঞানীদের কাছে পরিচিত। এখানে ডাইনোসরের ডিম এত বেশি পাওয়া যায় যে বিদেশি গবেষকরা রসিকতা করে এই অঞ্চলের নাম দিয়েছেন “Eggs-en-Provence”। কাছের একটি জায়গায় গত এক দশকে হাজারেরও বেশি জীবাশ্মায়িত ডিম উদ্ধার হয়েছে। তবে জীবাশ্মবিজ্ঞানী এরিক বুফো বলছেন, এ অঞ্চলে ডিম পাওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়। কোনো ডিমে ভ্রূণ পাওয়া গেলে — সেটাই হবে আসল বড় খবর।
ডিমগুলো প্রায় সাত কোটি বিশ লক্ষ বছরের পুরনো। গোল আকার আর হ্যান্ডবলের মতো মাপ দেখে মনে হচ্ছে এগুলো তৃণভোজী স্যরোপড ডাইনোসরের, যারা লম্বায় পনেরো মিটার আর ওজনে কুড়ি টন পর্যন্ত হতে পারত। খোলার আণুবীক্ষণিক পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তিনটি আলাদা প্রজাতি চেনা গেছে। লম্বাটে ডিম সাধারণত মাংসাশী ডাইনোসরের হয়। এই জায়গাতেই আগে একটি ছোট মাংসাশীর ডিম পাওয়া গিয়েছিল — মাত্র সাত সেন্টিমিটার। সেটির নাম রাখা হয়েছে আবিষ্কারকের নামে: প্রিজমাটোওলিথাস কাবোটি (Prismatoolithus caboti)।
এত ডিম এখানে কেন জমেছিল? কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলটি ছিল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতে, মধ্য আফ্রিকার কাছাকাছি অক্ষাংশে। ভূগোলবিদরা একে বলেন “ফ্রাঙ্কো-আইবেরিয়ান দ্বীপ”। এই বদ্বীপের ছোট ছোট দ্বীপে ডাইনোসররা বারবার ফিরে আসত ডিম পাড়তে।
কাবো প্রথম এখানে ডিম খুঁজে পান ১৯৯৬ সালে। কিন্তু খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় লুটপাট। জায়গাটা বাঁচাতে তিনি নিজেই জমি কিনে নেন এবং গড়ে তোলেন একটি বেসরকারি জাদুঘর ও পার্ক। এখন বছরে প্রায় আশি হাজার মানুষ সেখানে আসেন। নতুন আবিষ্কার শীঘ্রই দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন বলে আশা রাখছেন এই নিবেদিতপ্রাণ গবেষক।