সোমক রায়চৌধুরী: “গোধূলির আবছায়া ছুঁয়ে ছুঁয়ে সূবর্ণরেখা…এই পথে একা একা হাঁটতেন বিভূতিভূষণ”– ন’এর দশকে কবির সুমনের এক বিখ্যাত গানের শেষ লাইন।কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়র একাকী নির্জন সেই পথ এঁদেলবেড়ের জঙ্গল, ইছামতীর তীর হয়ে আফ্রিকার রিখটার্সভেল্ড পর্বতমালার চাঁদের পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত; বাস্তব আর কল্পনার দ্যোতনায়। সেই পথেরই বিভিন্ন বাঁকের বিবরণ চিত্রিত করা হয়েছে “দ্য গড অফ দ্য লিটল রোড” বা “পথের দেবতা” প্রদর্শনীতে, লেখকের টুকরো পান্ডুলিপি, চিঠি, অদেখা ছবি, ব্যবহৃত কলম ও অন্যান্য স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে। কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটি(কেসিসি)তে গত ২৪’এ মার্চ এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেন।
“আজি হতে শতবর্ষ পরে” পথের পাঁচালী কালজয়ী হয়ে সাহিত্যপ্রেমীদের মননকে এভাবে নাড়া দেবে, ১৯২৭’এ তার প্রথম উপন্যাস শেষ করার সময় কি ভাবতে পেরেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়? দেশে-বিদেশে বহু ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে পথের পাঁচালী। খসড়া পান্ডুলিপি বলছে “দূরের বাড়ি” নামক লেখায় প্রথম কলমের আঁচড় পড়েছিল ১৯২৪ সালে। কল্পনার স্রোতে ভেসে, ভাষার মায়াজালে, তাই বিবর্তিত হয়ে যায় পথের পাঁচালী উপন্যাসে। তবে এই উৎসের সন্ধান মাত্র কয়েকদিন আগেই খুঁজে পান বিভূতিবাবুর কনিষ্ঠ পৌত্র তৃণাঙ্কুর বন্দোপাধ্যায়। এই প্রদর্শনীর জন্য বাড়িতে রক্ষিত পুরনো পান্ডুলিপির দিস্তে ঘাঁটতে গিয়ে। “আমার ঠাকুরদাদার হাতের লেখা প্রায় দুর্বোধ্য ছিল। তাই হয়ত বাবা-মার পক্ষে এটা বোঝা সম্ভব হয় নি”; “দূরের বাড়ি” প্রসঙ্গে জানালেন তৃণাঙ্কুর। “পথের পাঁচালীর” উৎসমুখের সন্ধান পেতে তাই কেটে গেল পুরো এক শতাব্দী। উপন্যাসের শতবর্ষ উপলক্ষে এই প্রদর্শনীর কিউরেটর পৌত্র তৃণাঙ্কুরই।
১৯১৮’ সালে রিপন কলেজ থেকে ডিস্টিঙ্কশন সহ বিএ পাশ করেন বিভূতিভূষণ। আবার ওই বছরই তার প্রথম স্ত্রী গৌরীদেবী ও ছোটবোন সরস্বতীর মৃত্য হয়। গৌরী দেবীর সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন ছিল মাত্র এক বছরের। এরপর ১৯২১’এ মাতৃবিয়োগ; টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মৃণালিনী দেবী। ব্যক্তিগত জীবনে এই ধারাবাহিক ট্র্যাজেডির মধ্যেই লেখা শুরু করলেন বিভূতিবাবু। ১৯২১’এই প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হল তার প্রথম গল্প উপেক্ষিতা। ওই সময় তিনি বিভিন্ন ইস্কুলে শিক্ষকতার চাকরি করতেন। পরে ১৯২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ইস্কুল শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে খেলাতচন্দ্র এস্টেটের সহকারী ম্যানেজারের চাকরিতে যোগ দিতে প্রথম ভাগলপুরে আসেন বিভূতিভূষণ। এই সময়েই, কিছুটা নির্জনতার মধ্যে পথের পাঁচালী ও অপরাজিত, দুটো উপন্যাসের খসড়া একই সঙ্গে করেন তিনি। এবং ১৯২৫ থেকে ২৭ সালের মধ্যে পথের পাঁচালী লেখা শেষ করে ফেলেন। ২৪’এ লেখার প্রথম একাংশ তিনি পড়ে শুনিয়েছিলেন বন্ধু নিরোদ সি চৌধুরীকে। নীরোদবাবু তার “দাই হ্যান্ড: গ্রেট অ্যানার্ক” এ লিখেছেন, “কয়েক পৃষ্ঠা শুনেই আমি এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ি যে বন্ধুকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকি উপন্যাসটি শেষ করার জন্য”।
১৯২৮ সাল থেকে বিচিত্রা পত্রিকায় ধারাবাহিক আকারে প্রকাশিত হতে থাকে পথের পাঁচালী। সমগ্র পৃথিবীর বুকে তখন নেমে এসেছে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কালোছায়া; চারিদিকে অভাব, অনটন ও অপ্রাপ্তির দৃশ্য। দূর্গার মৃত্যুর যে নির্মম-নির্লিপ্ত বিবরণ প্রথমে লিখেছিলেন বিভূতিবাবু, সেই খসড়াও রয়েছে প্রদর্শনীতে। পরে অবশ্য তা অনেকটাই বদলে দিয়েছিলেন লেখক। ১৯২৯ সালে বিভূতিবাবুর প্রথম উপন্যাস পথের পাঁচালী গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় রঞ্জন প্রকাশালয় থেকে। তার পরে ১৯৩২’এ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস অপরাজিত। ১৯২৭’এ সুদূর ইসমাইলপুরের নির্জনতায় বসে দোল পূর্ণিমার রাতে তিনি একটি উপন্যাসের খসড়া করেছিলেন। যার কিছুটা উদ্ধার করলে পাওয়া যায় “ধাওতাল সাহু”, “পরীর দেশের মতো”, “নির্জন জঙ্গলে”, জ্যোৎস্নার “weird beauty” ইত্যাদি শব্দবন্ধ। যা থেকে বুঝতে অসুবিধে হয় না এটাই আরণ্যক উপন্যাসের প্রথম খসড়া, যা প্রদর্শিত হয়েছে “পথের দেবতায়”। বিভূতিবাবু খসড়া থেকে মূল লেখায় উপনীত হওয়ার পর্যায় লেখাটি অনেকাংশেই বদলে ফেলতেন। এমনকি বিচিত্রা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে যে পথের পাঁচালী প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় তাতে যোগ হয় পূর্ণ একটি অধ্যয়।

১৯৫০ সালে ১’ নভেম্বর ঘাটশিলায় মাত্র ছাপ্পান্ন বছর বয়সে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিভূতিবাবুর আকস্মিক মৃত্যুর পরও কিভাবে রয়ে গেল তার এই খসড়া, পান্ডুলিপি, চিঠি, লেখার সামগ্রী, ফতুয়া ইত্যাদি? এর পেছনে রয়েছে আর একটি কাহিনী।
বিভূতিবাবুর মৃত্যুর আটদিনের মাথায়, পেশায় চিকিৎসক তার ছোটভাই নুটবিহারীও আত্মহত্যা করেন। ইনিই বিভূতিবাবুর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু দাদার মৃত্যুর জন্য তার ভুল চিকিৎসাকেই দায়ী করলেন অনেকে। বিভূতিবাবুর অত্যন্ত কাছের মানুষ নুটবিহারী এই দোষারোপের তীব্রতায় একেবারে ভেঙ্গে পড়লেন। কার্বোলিক অ্যাসিড খেয়ে শেষ করে দিলেন নিজের জীবন; নদীর ধারে পাওয়া গেল তার মৃতদেহ। দশদিনের মধ্যে একটি পূর্ণ পরিবার ভেঙ্গে প্রায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। এই সন্ধিক্ষণে হারিয়ে যেতে পারত কথাসাহিত্যিকের জীবনের বহু মূল্যবান ইতিহাসের টুকরো! বিভূতিবাবুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী রমা, তার তিন বছরের শিশু পুত্র ও ছোট জা যমুনাকে নিয়ে পড়লেন ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে। সিদ্ধান্ত নিলেন ঘাটশিলা ছেড়ে ব্যারাকপুরে তার পিতৃগৃহে চলে যাওয়ার। তৃণাঙ্কুর জানান, “এই সময় এক স্বপ্নে আমার ঠাকুমা রমা দেখলেন যে বিভূতিবাবু তাকে বলছেন তার বইপত্র ও লেখালেখি সংক্রান্ত সমস্ত কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে। তাই বিশেষভাবে একটি তোরঙ্গে বিভূতিবাবুর সমস্ত বই খাতাপত্র ও একটি ব্রিফকেস, যাতে লেখার সামগ্রী নিয়ে সর্বত্র ঘুরতেন বিভূতিবাবু, ঘাটশিলার টিলায় বসে যার ওপর কাগজ রেখে লিখতেন–সর্বস্ব নিয়ে ব্যারাকপুরে চলে আসেন ঠাকুমা। সেই তোরঙ্গ খুলেই লেখকের ব্যবহৃত ফতুয়া, পান্ডুলিপি থেকে চিঠিপত্র ও লেখার কলম, এমনকি তার চিকিৎসায় ব্যবহৃত নুটবিহারীর স্টেথোস্কোপ-সিরিঞ্জ ইত্যাদি পরে সযত্নে সংরক্ষণ করে পরিবার”। যে পান্ডুলিপির গোছা ঘাঁটতে গিয়ে বেরিয়ে আসে লেখক সম্পর্কিত নানা অজানা তথ্য। সম্প্রতি “দূরের বাড়ি”র তত্ত্বও আবিষ্কার করেন তৃণাঙ্কুর।

ট্র্যাজেডি লেখক বিভূতিভূষণের পিছু ছাড়ে নি। মাঝের ভাই ইন্দুভূষণ অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিলেন। তার আরেক বোন জাহ্নবী ইছামতীর জলে স্নান করতে গিয়ে একদিন আর ফিরলেন না, কুমীর তাকে টেনে নিয়ে গেল। (এই জাহ্নবীর কন্যা উমার সঙ্গেই পরে বিয়ে হয় কবি শচীন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়র)। এই সময় ১৯৩৯ সালে কল্যাণী ওরফে রমা লেখকের কাছে আসেন তার সই নিতে। সেই প্রথম তাদের আলাপ হয়, রমার পরণে ছিল একটি আকাশী নীল শাড়ি, যা পরবর্তীতে বিভূতিবাবুর খুবই প্রিয় হয়ে পড়ে। তার ফতুয়ার সঙ্গে রমার এই শাড়িও টাঙ্গানো রয়েছে প্রদর্শনীর দেওয়ালে। পরের বছরই কথাসাহিত্যিকের সঙ্গে রমার সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়; দুজনের মধ্যে বয়সের ফারাক ছিল বছর তিরিশের। তারা ঘাটশিলার বাড়িতে পাকাপাকি থাকতে শুরু করেন। সঙ্গে ছোটভাই নুটবিহারী ও তার স্ত্রী। বিভূতিবাবু ঘাটশিলার এই বাড়ির নাম রেখেছিলেন “গৌরীকুঞ্জ”, বহু বছর আগে প্রয়াত তার প্রথমা স্ত্রীর নামে। ১৯৪৭ সালে পুত্র বাবলুর জন্ম। এর আগে রমা দুটি কন্যার জন্ম দিলেও তারা অল্পদিনের মধ্যেই মারা যায়। শিশুপুত্র বাবলুর সঙ্গে বিভূতিবাবুর গভীর স্নেহের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা জানা যায় লেখকের দিনলিপির পাতা থেকে।
এই প্রদর্শনীর নকশায় রাখা হয়েছে মূলত তিনটি বিভাগে– কালজয়ী লেখকের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন। বিভূতিবাবুর ব্যক্তিগত জীবনের বহু অজানা কাহিনী দৃশ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন গত শতাব্দীর তিনের দশকের শুরুতে জনৈকা যুবতী সূপ্রভা দত্তের সঙ্গে লেখকের প্রণয়-পর্ব। সুপ্রভার ছবি ও তাকে লেখা বিভূতিবাবুর প্রেমপত্র প্রদর্শিত হয়েছে।
সে যুগে অসবর্ণ বিবাহে দুই পরিবার রাজি না হওয়ায়, তাদের সম্পর্ক অবশেষে ভেঙ্গে যায়। “প্রদীপের নীচে অন্ধকারের মতো এই চরিত্রগুলো হারিয়ে যাচ্ছে; তাই এটা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিই”। বললেন তৃণাঙ্কুর। খ্যাতির শীর্ষে থাকা অবস্থাতেও বিভূতিবাবুর অতি সাধারণ জীবনযাপনের নানা নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে প্রদর্শনীতে। জঙ্গল ও নির্জন জায়গায় ব্রিফকেসে লেখার সামগ্রী নিয়ে ঘুরে বেড়াতে ভালবাসতেন লেখক, নুড়ি পাথর কুড়োতেন, বিড়ি খেতেন। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে কুড়োনো নুড়ি পাথর, সেই ব্রিফকেস, তার দিনলিপির পাতা প্রদর্শিত হয়েছে।
পথের পাঁচালী থেকে আরণ্যক, চাঁদের পাহাড় হয়ে শেষ উপন্যাস ইছামতী। বিভূতিবাবুর সৃষ্টির জগতে প্রকৃতি, জঙ্গল ও মানব-জীবনের বিবর্তনের ছায়াপথ–নানা সূক্ষ্ম সম্পর্কের জটিলতায় জড়িয়ে রয়েছে, লেখকের গদ্যের প্রলেপের নীচে। তৃণাঙ্কুরের মতে, সময় এসেছে ভাষার বুননের সেই স্তরগুলো উন্মোচন করে নীচের বিশ্বাসের কাঠামোটিকে বোঝার। বিভূতিবাবুর দর্শনে গন্তব্য নয়, অন্তিম পর্যন্ত নিরন্তর পথ চলার গতিময়তাই প্রাত্যহিক যন্ত্রণার উপশম; জীবনের অন্তিম উদ্দেশ্য ও আনন্দ। অপু চরিত্র নির্মাণে বারবার এসেছে তার জীবনের ট্র্যাজেডির ঢেউ’এর নির্মম ঝাপটা, তবুও বোহেমিয়ান অপুর কল্পনাপ্রবণতায় পড়ে নি ভাটার টান। অপুকে তিনি চিত্রিত করেছেন ‘citizen of the cosmos” বা মহাবিশ্বের নাগরিক হিসেবে। তার পিতা হরিহর চরিত্রের মধ্যেও রয়েছে বিভূতিবাবুর হিন্দি ও সংস্কৃত ভাষায় লেখক-পিতা মহানন্দের ছায়া; যেমন বনগাঁ থেকে রাণাঘাট যাওয়ার পথে গোপালপুর স্টেশনের অদূরে লেখকের পৈতৃক ভিটের বারাকপুর গ্রামই উপন্যাসের বর্ণনায় হয়ে গিয়েছে নিশ্চিন্দিপুর। এই মহাবিশ্বের নাগরিক লেখকের সৃজনীতে নানা রূপে আবির্ভূত হয়েছে বারবার–রিখটার্সভেল্ড পর্বতের গভীর জঙ্গলে ডিয়েগো আলভারেজ ও শঙ্করের চাঁদের পাহাড়ের অনুসন্ধিৎস্যায়, আরণ্যকে রাজ্যহীন এক সাঁওতাল রাজার উদার ঔদাসিন্যে, ইছামতীর গয়া মেমের চারিত্র নির্মাণে এক বিকল্প নারীর বৈচিত্র্যময়তায়, বা অশনি সংকেতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে মন্বন্তর কালে ছুটকি চরিত্রের দ্বৈততায়। “একটা কথা অবশ্যই লিখবেন, ইছামতীর দ্বিতীয় পর্বও লিখতে শুরু করেছিলেন বিভূতিবাবু। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারেন নি”। মনে করিয়ে দেন তৃণাঙ্কুর। উল্লেখ্য, ১৯৪৯’এ লেখকের মৃত্যুর আগের বছর প্রকাশিত হয়েছিল উনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নীলচাষ অধ্যয়ের ওপর লেখা সামাজিক ও ঐতিহাসিক উপন্যাস ইছামতী। শেষ উপন্যাসে সমাজ-জীবনের এক বিবর্তন পর্বের চিত্র অঙ্কন করেছিলেন লেখক। সেবছরই চীনের বিপ্লব সফল হয়। যদিও ইছামতীর খসড়া তার দিনলিপি “স্মৃতিলেখায়”, বহু বছর আগে নদীতীরে বসে লিপিবদ্ধ করেছিলেন লেখক।
এছাড়াও গল্পকার বিভূতিবাবু তালনবমী, ডাকগাড়ি, সুলেখা, অভিশপ্ত, নাস্তিক, মেঘমল্লার, মৌরীফুল, পুঁইমাচা সহ অজস্র সৃষ্টির মাধ্যমে অপূর্ব নান্দনিকতায় অঙ্কন করেছেন পরাধীন ভারতের প্রান্তিক সমাজ-জীবনের নানা অপূর্ণতা, প্রকৃতি ও মানুষের একাত্মতা, মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত ও লোক-কাহিনীর; লৌকিকতার সীমানা ছাড়িয়ে যা কখনও পৌঁছেছে অলৌকিকের পর্যায়। পথের পাঁচালীর হাত ধরে বাঙলা চলচ্চিত্রে নতুন ধারার প্রচলন করেছিলেন পরিচালক সত্যজিত রায়। তার কথায় “পথের পাঁচালী আমার কাছে এখনও এক “মিস্টিক” বা গূঢ় রহস্যময় নভেল হয়েই রয়ে গিয়েছে”। যেমন শতবর্ষ অতিক্রম করেও “মিস্টিক” হয়েই রয়ে গিয়েছে “পথের দেবতা” বিভূতিভূষণের এই জগৎ ও দর্শন।
প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৯’এ এপ্রিল পর্যন্ত। বিভূতি জীবন-সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে এই প্রদর্শনীতে নানা অনুষ্ঠান রয়েছে। যেমন দৃষ্টিহীনদের জন্য পথের পাঁচালীর বিশেষ শ্রাব্য-সংস্করণের স্ক্রিনিং, বা বিভূতিবাবুর গল্পের ওপর নির্মিত গৌতম ঘোষের শর্ট ফিল্ম ফকিরের প্রদর্শন ইত্যাদি।

মৃত্যুর পর স্ত্রী-পুত্রর সঙ্গে