13
বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরপ্রদেশের গৌতমবুদ্ধ নগর জেলার শিল্পশহর নয়ডায় গত কয়েকদিন ধরে যে শ্রমিক অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, তা এপ্রিলের মাঝামাঝিতে এসে হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। নয়ডার ফেজ-২ শিল্পাঞ্চলের একটি বৈশ্বিক রপ্তানি সংস্থার শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করেও তাঁদের মাসিক বেতন মাত্র ৯,০০০ টাকা। এই বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে পুষে রেখেছিলেন শ্রমিকরা, কিন্তু বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ফল না পেয়ে তাঁরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হন।
১০ এপ্রিল, শুক্রবার থেকেই নয়ডার ফেজ-২ হোসিয়ারি কমপ্লেক্সে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তা নয়ডা ও গ্রেটার নয়ডার একাধিক শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, এবং হাজার হাজার শ্রমিক উচ্চতর মজুরির দাবিতে রাস্তায় নামলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। শ্রমিকরা হরিয়ানার মানেসার মডেলের আদলে তাঁদের মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান।
প্রায় ৮,০০০ শ্রমিক রাস্তায় নেমে পড়েন এবং কুলেসরা, সেক্টর-৮২, ফেজ-২ এবং ভঙ্গেল এলিভেটেড রোডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে গ্রেটার নয়ডা, নয়ডা এবং দিল্লির মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শ্রমিকরা নয়ডা–গ্রেটার নয়ডা এলিভেটেড রোড অবরোধ করলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং একাধিক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করতে হয়।
পরিস্থিতি সবচেয়ে বিপজ্জনক আকার নেয় ১৩ এপ্রিল, সোমবার। সেক্টর ১-এর ৮৪ নম্বর ব্লকে আন্দোলনকারীরা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং অন্তত দুটি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। পাথর ছোড়া ও সংঘর্ষে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একাধিক যানবাহন ও কোম্পানির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন নারী বিক্ষোভকারী গুলিতে আহত হন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না।” শ্রমিকদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের শোষণ — দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ওভারটাইমের পারিশ্রমিক না দেওয়া, বোনাস বঞ্চনা এবং কর্মক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশ।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসন তৎপর হয়। জেলাশাসক মেধা রূপম ঘোষণা করেন, ওভারটাইমের জন্য দ্বিগুণ মজুরি এবং সাপ্তাহিক ছুটি বাধ্যতামূলক করা হবে। নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করালে সেই দিনের বেতনও দ্বিগুণ দিতে হবে। গৌতমবুদ্ধ নগর জুড়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়, যেখানে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়া, অনুমোদনহীন বেতন কর্তনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্রতিটি শ্রমিককে বেতন স্লিপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। রোববারই জেলাশাসক শ্রম বিভাগের প্রধান সচিব ও শ্রম কমিশনারের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও পরিস্থিতি নজরে নিয়ে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করতে বলেন।
নয়ডার এই ঘটনা নিছক একটি কারখানার বিরোধ নয়। ভারতের শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৈষম্য, শ্রম আইনের ফাঁকফোকর এবং শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষায় কর্পোরেট অনীহার যে পুরনো ব্যাধি, তারই একটি তীব্র প্রতিফলন এই বিক্ষোভ। রাস্তায় আগুন জ্বলার আগে বছরের পর বছর ধরে বুকের ভেতরে যে আগুন জমছিল, তারই বিস্ফোরণ দেখছে নয়ডা।
১০ এপ্রিল, শুক্রবার থেকেই নয়ডার ফেজ-২ হোসিয়ারি কমপ্লেক্সে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তা নয়ডা ও গ্রেটার নয়ডার একাধিক শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, এবং হাজার হাজার শ্রমিক উচ্চতর মজুরির দাবিতে রাস্তায় নামলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। শ্রমিকরা হরিয়ানার মানেসার মডেলের আদলে তাঁদের মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান।
প্রায় ৮,০০০ শ্রমিক রাস্তায় নেমে পড়েন এবং কুলেসরা, সেক্টর-৮২, ফেজ-২ এবং ভঙ্গেল এলিভেটেড রোডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে গ্রেটার নয়ডা, নয়ডা এবং দিল্লির মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শ্রমিকরা নয়ডা–গ্রেটার নয়ডা এলিভেটেড রোড অবরোধ করলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং একাধিক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করতে হয়।
পরিস্থিতি সবচেয়ে বিপজ্জনক আকার নেয় ১৩ এপ্রিল, সোমবার। সেক্টর ১-এর ৮৪ নম্বর ব্লকে আন্দোলনকারীরা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন এবং অন্তত দুটি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। পাথর ছোড়া ও সংঘর্ষে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একাধিক যানবাহন ও কোম্পানির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন নারী বিক্ষোভকারী গুলিতে আহত হন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না।” শ্রমিকদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের শোষণ — দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ওভারটাইমের পারিশ্রমিক না দেওয়া, বোনাস বঞ্চনা এবং কর্মক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশ।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসন তৎপর হয়। জেলাশাসক মেধা রূপম ঘোষণা করেন, ওভারটাইমের জন্য দ্বিগুণ মজুরি এবং সাপ্তাহিক ছুটি বাধ্যতামূলক করা হবে। নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করালে সেই দিনের বেতনও দ্বিগুণ দিতে হবে। গৌতমবুদ্ধ নগর জুড়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়, যেখানে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়া, অনুমোদনহীন বেতন কর্তনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্রতিটি শ্রমিককে বেতন স্লিপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। রোববারই জেলাশাসক শ্রম বিভাগের প্রধান সচিব ও শ্রম কমিশনারের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও পরিস্থিতি নজরে নিয়ে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করতে বলেন।
নয়ডার এই ঘটনা নিছক একটি কারখানার বিরোধ নয়। ভারতের শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৈষম্য, শ্রম আইনের ফাঁকফোকর এবং শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষায় কর্পোরেট অনীহার যে পুরনো ব্যাধি, তারই একটি তীব্র প্রতিফলন এই বিক্ষোভ। রাস্তায় আগুন জ্বলার আগে বছরের পর বছর ধরে বুকের ভেতরে যে আগুন জমছিল, তারই বিস্ফোরণ দেখছে নয়ডা।