Home খবর “নো কিংস” বিক্ষোভে আমেরিকা

“নো কিংস” বিক্ষোভে আমেরিকা

0 comments 4 views
A+A-
Reset

শনিবার জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। “নো কিংস” নামে পরিচিত এই ঢিলেঢালা জাতীয় প্রতিবাদ সিরিজের এটি ছিল তৃতীয় ধাপ এবং গত অক্টোবরের পর প্রথম বড় আকারের বিক্ষোভ দিবস। এই প্রতিবাদ এমন সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে এবং ডেমোক্র্যাটরা ইরানের সঙ্গে চলমান অজনপ্রিয় যুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

এই আন্দোলনের পটভূমিতে রয়েছে এক মাস আগে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা, যা বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা করে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামে, পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। “নো কিংস” সংগঠকদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিলেও, স্থানীয় প্রশাসনের হিসেবে কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যা কম হতে পারে। তবে এই আন্দোলনের কেন্দ্রে শুধু ইরান যুদ্ধ নয়—একাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

প্রথমত, যুদ্ধের বিরোধিতা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করেছে। অনেকের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতই তাদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার প্রধান কারণ। “ভোটার্স অব টুমরো” নামে একটি সংগঠন ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। সংগঠক কেটি গেটস জানান, এবারের সমাবেশ আগের তুলনায় বেশি তরুণ, বৈচিত্র্যময় এবং উদ্যমী ছিল। একইভাবে জ্যাক ওয়ালশ বলেন, তিনি এমন কাউকে দেখেননি, যে আবার মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চায়।

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জোরদার হয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মিনেসোটায় সবচেয়ে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফেডারেল অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তেজনা ছিল। সেখানে টিম ওয়ালজ এবং বার্নি স্যান্ডার্স বক্তব্য রাখেন। সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন নিহতদের স্মরণে গান পরিবেশন করে বলেন, “এখনও এটি আমেরিকা, এবং এই দুঃস্বপ্ন চলতে পারে না।” এই বিক্ষোভে “এন্ড দিস ওয়ার” স্লোগানও শোনা যায়। গবেষক ডানা আর. ফিশার জানান, যুদ্ধ ও শান্তির প্রশ্ন এবার অনেক বেশি মানুষকে আন্দোলনে টেনেছে, যদিও অভিবাসন নীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

তৃতীয়ত, ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-আ-লাগো এস্টেটের কাছেও পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ দেখা যায়। হাজার হাজার মানুষ একটি শপিং এলাকার কাছে জড়ো হন। সেখানে এমিলি গ্রেগরি নামে এক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন, যিনি সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর উপস্থিতিতে সমাবেশে উৎসবের আবহ তৈরি হয়—ডিজে সংগীত বাজে এবং বব মার্লে ও ট্রেসি চ্যাপম্যান-এর গান শোনা যায়। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সমর্থকদের পাল্টা স্লোগানে উত্তেজনা ছড়ায়। হোয়াইট হাউস এই বিক্ষোভকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করে।

চতুর্থত, এই আন্দোলনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। জ্যানেট মিলস, গ্রাহাম প্ল্যাটনার, ম্যালরি ম্যাকমোরো, হ্যালি স্টিভেন্স, এড মার্কি এবং সেথ মোল্টন-সহ বহু নেতা এই বিক্ষোভে অংশ নেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য ২০২৮ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা পিট বুটিজেজ ও কোরি বুকার-এর অংশগ্রহণ এই আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।

পঞ্চমত, “নো কিংস” স্লোগানটি নতুন মাত্রা পায়। ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে যে মার্কিন ডলারে ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত করা হবে—যা অভূতপূর্ব পদক্ষেপ হিসেবে সমালোচিত হয়। সমালোচকদের মতে, এতে ট্রাম্প নিজেকে এক ধরনের রাজা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। এর প্রতিবাদে ডেমোক্র্যাটরা “নো কিংস” স্লোগানকে সামনে আনছে। কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ড জানান, তিনি একটি বিল আনবেন যাতে প্রেসিডেন্টরা সরকারি সম্পত্তি বা মুদ্রায় নিজেদের নাম বা স্বাক্ষর ব্যবহার করতে না পারেন। তাঁর কথায়, “আমরা কোনো রাজার কাছে মাথা নত করি না।”

সব মিলিয়ে, এই বিক্ষোভ একক কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে নয়; বরং যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি, ক্ষমতার ব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ—সবকিছুর বিরুদ্ধে জনমতের বহিঃপ্রকাশ। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি এবং “নো কিংস” স্লোগানের জনপ্রিয়তা এই আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত করেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয়, দেশের এক বড় অংশ বর্তমান প্রশাসনের নীতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়তে পারে।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles