এই সব কারণে জামায়াত এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে। তবে অনেকেই এখনও দলটির প্রকৃত আদর্শ নিয়ে অনিশ্চিত। বিএনপির নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যেমন বলেছেন, “আমি নিশ্চিত নই, তাদের প্রকৃত দর্শন কী।” সমস্যার একটি কারণ হলো দলের ভেতরেই মতপার্থক্য—মধ্যপন্থী ও কট্টরপন্থীদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। উপরন্তু দলীয় নেতা শফিকুর রহমান নিজেও কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। একবার তিনি বলেছিলেন, মাতৃত্ব ও স্তন্যপানের মতো জৈবিক বাস্তবতার কারণে নারীদের পক্ষে রাজনৈতিক নেতা হওয়া কঠিন—যা বাংলাদেশের মতো দেশে বিস্ময়কর মন্তব্য, কারণ এখানে বহু দশক ধরে নারীই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করেছেন। সেই মন্তব্যের জেরে বহু নারী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন।

তবু জামায়াতের লক্ষ্য স্পষ্ট—পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করা। ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে—এই প্রশ্নের উত্তরে শফিকুর রহমান সাধারণ কেন্দ্র-ডানপন্থী নীতির কথাই বলেন: ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে মানানসই করা, এবং দুর্নীতিগ্রস্ত বা পক্ষপাতদুষ্ট আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। শরিয়াহ আইনের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, জামায়াতের কাছে শরিয়াহ মানে “ন্যায়বিচার, কল্যাণ এবং ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা”—এক ধরনের বিস্তৃত ও অস্পষ্ট নীতিগত ধারণা।

এই ধরনের সাধারণ নীতির সঙ্গে তর্ক করা কঠিন—সম্ভবত সেটাই উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবে জামায়াত ক্ষমতায় এলে তারা কেমন বাংলাদেশ গড়তে চাইবে, সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর হয়তো এখনো কারও কাছে নেই—সম্ভবত আল্লাহই কেবল তা জানেন।