বাংলাস্ফিয়ার: আইপিএলে সাফল্যের পর সাধারণত একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তার শক্তিশালী দলটিকে যতটা সম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করে। কারণ টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল স্থায়ী দলগত কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠিত ম্যাচ-উইনারদের ধরে রাখা। কিন্তু আইপিএল ২০২৪-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেও কলকাতা নাইট রাইডার্স যেভাবে দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার—শ্রেয়স আইয়ার এবং ফিল সল্টকে দলে রাখেনি, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে তীব্র সমালোচনা করলেন ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার তথা প্রাক্তন জাতীয় দলের কোচ অনিল কুম্বলে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু কৌশলগত ভুলই নয়, বরং একটি সফল দলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
একটি ক্রিকেট বিশ্লেষণমূলক আলোচনায় কুম্বলে বলেন, আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় দলকে শক্তিশালী রাখতে হলে কোর গ্রুপকে ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যখন সেই দল মাত্রই শিরোপা জিতেছে।
কুম্বলের বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, জয় এনে দেওয়া ক্রিকেটারদের হঠাৎ ছেড়ে দিলে সেই দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। তাঁর মতে, আইয়ারের নেতৃত্ব এবং সল্টের বিস্ফোরক ব্যাটিং—দুটিই কেকেআরের সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ ছিল।
আইপিএল ২০২৪-এ কেকেআরের অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে তাঁর শান্ত নেতৃত্ব, ব্যাটিংয়ের স্থিতিশীলতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
কিন্তু কেকেআর তাঁকে ধরে না রাখায় আইয়ার পরে যোগ দেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবে। সেখানে গিয়ে তিনি দ্রুত নিজের প্রভাব দেখান। কুম্বলের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে কেকেআর কেবল একজন দক্ষ ব্যাটারই নয়, একজন পূর্ণাঙ্গ নেতাকেও হারিয়েছে।
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার ফিল সল্ট টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত। কেকেআরের হয়ে ওপেনিংয়ে তিনি দ্রুত রান তুলে ম্যাচের গতি বদলে দিতেন। দল ছাড়ার পর তিনি যোগ দেন রয়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে। তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিং আরসিবিকে তাদের প্রথম আইপিএল শিরোপা জেতার পথে সরাসরি ভূমিকা রাখে। কুম্বলে বলেন, “এমন একজন ম্যাচ-উইনারকে ছেড়ে দেওয়া মানে সরাসরি প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী করে তোলা।”
আইপিএলের ইতিহাসে চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস-এর উদাহরণ টেনে কুম্বলে বলেন, যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্য পেয়েছে, তারা সবসময় তাদের মূল দলকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন সানরাইসারস হায়দ্রাবাদ-এর অভিষেক শর্মা ও ট্রাভিস হেডের আক্রমণাত্মক ওপেনিং জুটির কথা, যারা ম্যাচের প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করে দলকে এগিয়ে রাখে। “একটি সফল ফর্মুলা পাওয়া গেলে সেটিকে যতদিন সম্ভব ধরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ,” বলেন কুম্বলে।
২০২৪-এর শিরোপা জয়ের পর কেকেআর সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, দলটি দীর্ঘমেয়াদে আধিপত্য বজায় রাখবে। কিন্তু আইয়ার ও সল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটারের বিদায় সেই পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে—কেকেআর কি নতুন কোনো কৌশলগত পরিকল্পনায় এগোচ্ছে, নাকি এটি স্রেফ নিলামের রাজনীতির ফল?
কুম্বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট ছোট সিদ্ধান্তই প্রায়ই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। আর এই কারণেই একজন দীর্ঘদিনের কোচ ও বিশ্লেষক হিসেবে কুম্বলের এই মন্তব্য ক্রিকেট মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।