খবর

ককপিটে শেষ লড়াই

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই বুঝতে পারছিলেন, বিমান দ্রুত নীচে নেমে যাচ্ছে।
  • বাইরে থেকে ভেসে আসছিল আতঙ্কিত যাত্রীদের চিৎকার।
  • সেই অবস্থাতেও শেষ শক্তিটুকু জড়ো করে দরজার দিকে এগিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মাথায় একের পর এক আঘাত। চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসছে সব কিছু। ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই বুঝতে পারছিলেন, বিমান দ্রুত নীচে নেমে যাচ্ছে। বাইরে থেকে ভেসে আসছিল আতঙ্কিত যাত্রীদের চিৎকার। সেই অবস্থাতেও শেষ শক্তিটুকু জড়ো করে দরজার দিকে এগিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার।

“আমার মধ্যে শেষবার লড়ার শক্তিটুকু বাকি ছিল”—আবু ধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে ৩০ সেপ্টেম্বরের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানান তিনি।

ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে মাচ্ছারের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওমানি সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে আহত ক্যাপ্টেন জানান, ঘটনার সবটা তাঁর মনে নেই। তীব্র আঘাতের মধ্যে কেবল কয়েকটি মুহূর্তই এখনও স্পষ্ট মনে করতে পারছেন তিনি।

শুরুতে সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। সহকারী পাইলট প্রার্থনা করতে চেয়েছিলেন। মাচ্ছারের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তাই তাঁকে প্রার্থনার সুযোগ দিয়ে সামনে তাকিয়েই ছিলেন তিনি।

কয়েক মিনিট পরেই আচমকা মাথার পিছনে প্রবল আঘাত।

প্রথমে মাচ্ছার ভেবেছিলেন, বিমানে হয়তো কোনও বড় বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু আঘাত থামেনি। পরপর আঘাত আসতেই বুঝতে পারেন, তাঁকে আক্রমণ করছেন ককপিটের ভিতরে থাকা সহকর্মীই।

প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন মাচ্ছার। কিন্তু কয়েকটি আঘাতের পরেই দৃষ্টি এতটাই ঝাপসা হয়ে যায় যে প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। তার মধ্যেই টের পান, বিমান অস্বাভাবিক ভাবে নীচে নেমে যাচ্ছে।

এক বার ককপিটের দরজা খোলার সুযোগও পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে তাঁর দাবি, হামলাকারী পরে দরজা ফের বন্ধ করে দেন। এরপর নিজেকে ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন মাচ্ছার।

সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর শেষ লড়াই।

তখন তাঁর মনে হয়েছিল, আর কিছু করতে না পারলে মৃত্যু অনিবার্য। নিজের প্রাণ বাঁচাবেন, না বিমানের অন্য যাত্রীদের—আলাদা করে ভাবার মতো সময় বা শক্তি কোনওটাই ছিল না। অবশিষ্ট শক্তিটুকু জড়ো করে ফের দরজার দিকে এগিয়ে যান তিনি।

দরজা খুলতেই বাইরে থাকা সহকর্মী এবং যাত্রীরা ভিতরে ঢোকার সুযোগ পান। হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার পরই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

নেতানিয়াহুকে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থাটিও ব্যাখ্যা করেন মাচ্ছার। ভিতর থেকে হাতল ঘোরালেই দরজা খোলা সম্ভব। বাইরে থেকে ঢুকতে হলে প্রয়োজন নির্দিষ্ট কোডের। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে সহকর্মীরা প্রবেশের চেষ্টা করলেও হামলাকারী তাঁদের বাধা দিচ্ছিলেন। ফলে গুরুতর আহত অবস্থায় ভিতর থেকে দরজার হাতল পর্যন্ত পৌঁছনোটাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে জরুরি কাজ।

ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-তে মোট ১৭৪ জন ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই ইজরায়েলি নাগরিক। হামলার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিমানে থাকা আরও দুই পাইলটও উড়ান সামলাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।

গুরুতর আহত মাচ্ছারকে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

চরম বিপদের মধ্যেও মাচ্ছারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সাহসের প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, ক্যাপ্টেনের পাশাপাশি যাঁরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও বহু প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ইজরায়েলের আগামী স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মাচ্ছার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শিখা প্রজ্বলনের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। আহত পাইলটের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের প্রতিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। সেদিন বিমানে থাকা ইজরায়েলি যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান নেতানিয়াহু এবং তাঁদের সাহসের প্রশংসা করেন।

ঘটনার তদন্ত করছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং ইজরায়েলের কর্তৃপক্ষ। হামলার উদ্দেশ্য, পূর্বপরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী যোগ—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাচ্ছারের বয়ান ককপিটের ভিতরের ঘটনাক্রম বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ঘটনার চূড়ান্ত কারণ বা উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্তকারীদের সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles