স্কাইওয়াক, সাবওয়ে, ১৩ তলা ভবন: যাত্রীদুর্ভোগ কমাতে নবরূপের পরিকল্পনা হাওড়ায়

যা জানা জরুরি
- হাওড়া স্টেশনে নেমে বাস, ট্যাক্সি, মেট্রো কিংবা ফেরি ধরতে যাত্রীদের যে ভিড় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে হয়, তা কমাতে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ঢেলে সাজানোর…
- প্রস্তাবে রয়েছে স্কাইওয়াক, সাবওয়ে সংস্কার এবং পরিবহণ ও বাণিজ্যিক সুবিধাযুক্ত ১৩ তলা ভবন।
- বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে যাতায়াত সহজ করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাওড়া স্টেশনে নেমে বাস, ট্যাক্সি, মেট্রো কিংবা ফেরি ধরতে যাত্রীদের যে ভিড় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে হয়, তা কমাতে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে রয়েছে স্কাইওয়াক, সাবওয়ে সংস্কার এবং পরিবহণ ও বাণিজ্যিক সুবিধাযুক্ত ১৩ তলা ভবন। বিভিন্ন পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে যাতায়াত সহজ করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই স্টেশনের বাইরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর আনাগোনা। অথচ পাশের বাসস্ট্যান্ডে জমা জল, আবর্জনা এবং অগোছালো পরিবেশ দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন পরিকল্পনায় বাসস্ট্যান্ডকে বহুতল ভবনের মধ্যে আনার কথা ভাবা হয়েছে। সেখানে বাসের পাশাপাশি ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে। ফলে যাত্রী ওঠানামা ও গাড়ি রাখার ব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, ভবনের নীচের অংশে বাস টার্মিনাস এবং অন্য তলাগুলিতে গাড়ি রাখার জায়গা থাকবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবার সঙ্গে শপিং মল, খাবারের দোকান ও বিনোদনের ব্যবস্থাও যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। রেল, কেএমডিএ, হাওড়া পুরসভা এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বহুতল প্রকল্পে আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্পটি তৈরির পরিকল্পনায় সরকারের অংশীদারিত্ব থাকবে ৭০ শতাংশ। তবে ভবনটির বিস্তারিত প্রকল্প-রিপোর্ট এখনও তৈরি হয়নি। ফলে এই পর্যায়ে পরিকল্পনার সঙ্গে চূড়ান্ত অনুমোদিত নির্মাণসূচিকে এক করে দেখা যাবে না।
ভবনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যাত্রী প্রতীক্ষালয়, সুলভে স্নান ও শৌচাগারের সুবিধা এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। সর্বোচ্চ দুই তলায় সাশ্রয়ী শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আবাসন ও অপেক্ষার জায়গা প্রস্তাবিত। চারটি দ্রুতগতির লিফটও পরিকল্পনায় আছে। পাশাপাশি, প্রধান সাবওয়ে ও ফেরিঘাট সংলগ্ন পরিকাঠামো উন্নয়নে পৃথক ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছে।
প্রধান সাবওয়েটি প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ, ফেরিঘাটের সাবওয়ে প্রায় ৫০ মিটার। দেওয়াল ও মেঝেতে গ্র্যানাইট, ছাদে পিভিসি প্যানেল এবং প্রবেশপথে ইস্পাত ও কাচের ছাউনি দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। সাবওয়েতে নতুন আলো, বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি, অগ্নি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, দিকনির্দেশক বোর্ড এবং জল সরানোর পাম্প বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট প্রবেশপথে এসক্যালেটরও বসানো হবে। পুজোর পরে কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোর আগে সাবওয়ে সংস্কার শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এই সময়সীমা প্রস্তাবিত বহুতল ভবন সম্পূর্ণ হওয়ার নিশ্চয়তা নয়; দুই প্রকল্পের প্রস্তুতির পর্যায় আলাদা।
স্কাইওয়াকের প্রস্তাব নিয়ে পূর্ব রেলও ভাবনাচিন্তা করছে। ‘এই সময়’-এর খবর অনুযায়ী, বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি স্টেশনের আট নম্বর প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত সংযোগ নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের বাসস্ট্যান্ড উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিস্তারিত প্রকল্প-রিপোর্ট তৈরির কথা জানিয়েছে পূর্ব রেল। অর্থাৎ, সংযোগের চূড়ান্ত নকশা এখনও নির্ধারণের পর্যায়ে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাস থেকে নেমে স্টেশনে ঢোকার পথ আরও সহজ হতে পারে।
এই উদ্যোগের পাশাপাশি স্টেশনের ভিতরেও ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পৃথক কর্মসূচি রয়েছে। ২৪ কামরার দূরপাল্লার ট্রেন দাঁড় করানোর উপযোগী ৬৩৫ মিটার দীর্ঘ ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে খরচ হয়েছে ২.৬৯ কোটি টাকা। দীর্ঘ ট্রেনের জন্য ১০ থেকে ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণে ১৭.৫৯ কোটি টাকার কাজের কথাও জানিয়েছিল রেল। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য বেশি কামরার ট্রেনের জায়গা করা এবং ট্রেন পরিচালনার সুবিধা বাড়ানো।
সমগ্র পরিকল্পনার তাৎপর্য যাত্রার বিভিন্ন ধাপকে কাছাকাছি আনা। ট্রেন থেকে নেমে ফেরিঘাট, মেট্রো বা বাসে পৌঁছনোর পথ সহজ হলে তার সুফল পাবেন নিত্যযাত্রী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায়ও বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ের মাধ্যমে যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার উপর জোর দিয়েছেন। এখন নজর থাকবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলির ওপর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



