হাওয়া বদলেছে , নির্ভয়ে গীতাপাঠের ডাক শুভেন্দুর; সাধুদের অপমান করলে জেলের হুঁশিয়ারি

যা জানা জরুরি
- গীতাপাঠ করুন নির্ভয়ে, প্রকাশ্যে পালন করুন ধর্মীয় আচার—রাজ্যের হাওয়া বদলে গিয়েছে।
- রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এই বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, সাধুসন্তদের অপমান করলে জেলে যেতে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
গীতাপাঠ করুন নির্ভয়ে, প্রকাশ্যে পালন করুন ধর্মীয় আচার—রাজ্যের হাওয়া বদলে গিয়েছে। রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এই বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, সাধুসন্তদের অপমান করলে জেলে যেতে হবে। গোরক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ধর্মীয় সমাবেশের মঞ্চ থেকে সরকারের অবস্থান বোঝাতে তিলক, শিখা, ধুতি ও তুলসীর প্রসঙ্গ টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধর্মীয় পরিচয় ও প্রতীকগুলি রক্ষার সরকার এখন রাজ্যে ক্ষমতায়। সমবেত মানুষকে দ্বিধা কাটিয়ে গীতা ও হনুমান চালিশা বিতরণ, হরেকৃষ্ণ নামসংকীর্তন এবং শঙ্খধ্বনি করার আহ্বান জানান তিনি। নিজের বিশ্বাস পালন ও প্রচার করতে ভয় পাওয়ার কারণ নেই বলেও আশ্বাস দেন।
বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি ও কুশপুতুল পুড়িয়ে তাঁকে অপমান করেছেন কমিউনিস্ট এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ছবি পোড়ানোর ঘটনায় সেই রাতেই ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন তিনি। বিধানসভাতেও সাধু, সন্ন্যাসী ও ধর্মগুরুদের অপমানের বিরুদ্ধে কারাবাসের কথা বলেছিলেন বলে জানান। এদিনের বক্তব্যে সেই অবস্থানই ফের স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।
বক্তৃতায় বাবাসাহেব অম্বেডকরের তৈরি সংবিধানের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত স্বাধীন দেশ। কোনও বিশ্বাস গ্রহণ করা বা না করা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে ধর্মগুরুকে অপমানের অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে তাঁর সরকার কঠোর থাকবে বলে বার্তা দেন। গ্রেফতার নিয়ে তাঁর দাবির উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট মামলার ধারা বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের দিন শ্রীরামপুরে প্রায় দেড়শো মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মমতা ‘আজাদি’ স্লোগান দিয়েছেন। দেশ ১৯৪৭ সালেই স্বাধীন হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের বক্তব্যের জবাব দেবেন জাতীয়তাবাদীরা। কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবির প্রসঙ্গ টেনে তাঁর ভাষায় ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে মমতার স্লোগান কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে ছিল, এমন কোনও স্বতন্ত্র তথ্য প্রতিবেদনে নেই; সেটি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক আক্রমণের প্রেক্ষিতেই উঠে এসেছে।
কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বাঙ্গুর জাগরণ মঞ্চ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে একসঙ্গে প্রায় ১১ হাজার মানুষ গীতা পাঠ করেন। শুভেন্দু জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পরিচয়ে নয়, সনাতনী হিসেবে তিনি এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। ধর্মাচরণের স্বাধীনতার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সমবেত শ্রোতাদের একজোট থাকার আবেদনও করেন তিনি। অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মপরিচয়ের সঙ্গে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও উঠে আসে।
পরবর্তী ধর্মীয় সমাবেশগুলির পরিকল্পনাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের গীতাপাঠে প্রায় এক লক্ষ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। পরে শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ। আগামী ২৯ ডিসেম্বর প্রায় দশ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে আরেকটি গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান তিনি। সেখানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য উপস্থিতির এই উল্লেখকে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে জানানো হয়নি। এই সংখ্যাগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লিখিত উপস্থিতি ও ভবিষ্যৎ আয়োজনের লক্ষ্য; ডিসেম্বরের সমাবেশে প্রকৃত উপস্থিতি কত হবে, তা এখনই নির্ধারিত হওয়ার বিষয় নয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছরের মকরসংক্রান্তিতে বাংলায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ধর্মগুরু জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য। ব্রিগেডে একটি বড় ধর্মীয় সমাবেশ করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে গীতা মহোৎসবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব প্যাভিলিয়ন থাকবে বলে জানান শুভেন্দু। ফলে রবিবারের অনুষ্ঠানেই বর্তমান আয়োজনের বাইরে ভবিষ্যতের একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সরকারি উপস্থিতির পরিকল্পনাও সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



