অর্থ ও বাণিজ্য

টাকা ঢুকছে রেকর্ড হারে, তবু তিন বছরের এসআইপি ফল বহু বিভাগে এক অঙ্কে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: শেয়ারভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ডে নিয়মিত বিনিয়োগ বাড়লেও গত তিন বছরে এসআইপির ফল সব বিভাগে সমান উজ্জ্বল নয়।
  • ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ১১ ধরনের শেয়ার তহবিলের গড় তিন বছরের এসআইপি ফল প্রায় ৫.৯০ শতাংশ থেকে ১২.৫৯ শতাংশের মধ্যে পাওয়া গেছে।
  • বড় সংস্থার তহবিল নিচের দিকে এবং মাঝারি সংস্থার তহবিল উপরের দিকে ছিল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: শেয়ারভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ডে নিয়মিত বিনিয়োগ বাড়লেও গত তিন বছরে এসআইপির ফল সব বিভাগে সমান উজ্জ্বল নয়। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ১১ ধরনের শেয়ার তহবিলের গড় তিন বছরের এসআইপি ফল প্রায় ৫.৯০ শতাংশ থেকে ১২.৫৯ শতাংশের মধ্যে পাওয়া গেছে। বড় সংস্থার তহবিল নিচের দিকে এবং মাঝারি সংস্থার তহবিল উপরের দিকে ছিল।

একই সময়ে মাসিক এসআইপি অবদান আগস্টে রেকর্ড ৩২,২৯৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের মোট পরিচালিত সম্পদও ৮৭ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। অর্থপ্রবাহের এই বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত সঞ্চয়ের বিস্তার দেখায়, কিন্তু বেশি টাকা আসা ভবিষ্যৎ লাভের নিশ্চয়তা নয়।

এসআইপিতে নির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়মিত বিনিয়োগ করা হয়। দাম কমলে বেশি ইউনিট এবং দাম বাড়লে কম ইউনিট কেনা পড়ে। এতে একবারে ভুল সময়ে পুরো অর্থ বিনিয়োগের ঝুঁকি কিছুটা ছড়িয়ে যায়। কিন্তু বাজার দীর্ঘ সময় দুর্বল থাকলে বা নির্বাচিত তহবিল পিছিয়ে পড়লে এসআইপিতেও কম বা ঋণাত্মক ফল হতে পারে।

তিন বছরের এসআইপি ফল হিসাব করতে সাধারণ বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হার যথেষ্ট নয়, কারণ প্রতিটি কিস্তি আলাদা সময়ে বিনিয়োগ হয়। সাধারণত এক্সআইআরআর ব্যবহার করা হয়। কোনও সংবাদ বা তহবিলের বিজ্ঞাপনে ‘বার্ষিক ফল’ দেখলে সেটি এককালীন বিনিয়োগের চক্রবৃদ্ধি হার, না কিস্তিভিত্তিক এক্সআইআরআর—তা না-দেখলে তুলনা বিভ্রান্তিকর হবে।

বিভাগের গড়ও প্রতিটি প্রকল্পের ফল নয়। একই ধরনের তহবিলের মধ্যে শেয়ার নির্বাচন, খরচের অনুপাত, নগদ ধারণ, সূচক ও পরিচালকের সিদ্ধান্তে বড় পার্থক্য হতে পারে। আবার মাঝারি সংস্থার বিভাগ গত তিন বছরে এগিয়ে থাকলেও তার ওঠানামা এবং পতনের ঝুঁকি বড় সংস্থার তহবিলের তুলনায় বেশি হতে পারে।

তিন বছর শেয়ারবাজারের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট সময়। বাড়ির অগ্রিম, শিক্ষার ফি বা অন্য নিশ্চিত খরচ যদি তিন বছরের মধ্যেই প্রয়োজন হয়, শুধুমাত্র বেশি সম্ভাব্য ফলের আশায় পুরো অর্থ শেয়ার তহবিলে রাখা সময়ের অমিল তৈরি করতে পারে। বাজার নিচে থাকলেও প্রয়োজনের দিনে টাকা তুলতে হতে পারে।

গত ফলের পাশাপাশি সরাসরি ও নিয়মিত পরিকল্পনার পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিকল্পনায় পরিবেশকের কমিশনের কারণে খরচের অনুপাত সাধারণত বেশি। সরাসরি পরিকল্পনা সস্তা হলেও তহবিল নির্বাচন, সম্পদ-বণ্টন ও পুনর্বিন্যাসের দায়িত্ব বিনিয়োগকারীর।

বিশ্লেষণ: রেকর্ড এসআইপি প্রবাহকে বাজারের প্রতি স্থায়ী আস্থার প্রমাণ বলা যায়, কিন্তু এটি মূল্যায়নের নিরাপত্তা নির্দেশ করে না। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি আচরণগত শৃঙ্খলা তৈরি করে; ভুল লক্ষ্য, অতিরিক্ত ঝুঁকি বা দুর্বল তহবিলকে সে ঠিক করে না।

কম তিন বছরের ফল দেখে এসআইপি বন্ধ করা অথবা সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বিভাগে সব টাকা সরানো—দুটি সিদ্ধান্তেই সাম্প্রতিক ফলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিনিয়োগের সময়সীমা, জরুরি তহবিল এবং শেয়ার–ঋণপত্রের সামগ্রিক অনুপাত আগে দেখা প্রয়োজন। এসআইপি একটি জমা দেওয়ার পদ্ধতি; নিজে কোনও সম্পদশ্রেণি, সুরক্ষা-কবচ বা নিশ্চিত লাভের প্রকল্প নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles