ব্যাঙ্ক বদলালেও একই ফাস্ট্যাগ: ‘ওয়ানট্যাগে’ পুরনো স্টিকার রাখার সুযোগ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ফাস্ট্যাগ পরিষেবার ব্যাঙ্ক বা ইস্যুকারী বদলাতে এখন আর গাড়ির কাচ থেকে পুরনো ট্যাগ খুলে নতুনটি লাগাতে হবে না।
- জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ ১৮ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ানট্যাগ’ ব্যবস্থা চালু করেছে।
- যোগ্য ব্যবহারকারী একই ভৌত ট্যাগ ও পরিচয়সংখ্যা রেখে অন্য অনুমোদিত ইস্যুকারীর কাছে যেতে পারবেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ফাস্ট্যাগ পরিষেবার ব্যাঙ্ক বা ইস্যুকারী বদলাতে এখন আর গাড়ির কাচ থেকে পুরনো ট্যাগ খুলে নতুনটি লাগাতে হবে না। জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ ১৮ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ানট্যাগ’ ব্যবস্থা চালু করেছে। যোগ্য ব্যবহারকারী একই ভৌত ট্যাগ ও পরিচয়সংখ্যা রেখে অন্য অনুমোদিত ইস্যুকারীর কাছে যেতে পারবেন।
রাজমার্গযাত্রা অ্যাপের মাধ্যমে স্থানান্তরের আবেদন করা যাবে। গাড়ির নিবন্ধন নম্বর দেওয়ার পরে বর্তমান ইস্যুকারীর কাছ থেকে ছয় অঙ্কের যাচাই-সংকেত নিতে হবে। তারপর নতুন ইস্যুকারী বেছে পরিচয় যাচাই এবং নতুন ওয়ালেটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সব নথি ঠিক থাকলে পুরনো ট্যাগটিই নতুন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হবে।
বর্তমান ওয়ালেট বন্ধ হওয়ার পরে বকেয়া বা অনুমোদিত কাটতি সমন্বয় করে অবশিষ্ট অর্থ গ্রাহকের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা। ফেরতের মাধ্যম ও সময় ইস্যুকারীর প্রক্রিয়া অনুযায়ী বদলাতে পারে। স্থানান্তরের আগে পুরনো ওয়ালেটের হিসাব এবং ফেরতের প্রমাণ সংরক্ষণ করা তাই জরুরি।
একবার ইস্যুকারী বদলানোর পরে ছয় মাস আবার স্থানান্তর করা যাবে না। এই বিরতি ঘন ঘন পরিবর্তন ও ব্যবস্থাগত অপব্যবহার কমানোর জন্য। ফলে শুধু অস্থায়ী পুরস্কার বা স্বল্পমেয়াদি ছাড় দেখে ইস্যুকারী বাছলে অসন্তুষ্ট হলেও ছয় মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ভারতে প্রায় ১৩ কোটি ফাস্ট্যাগ ব্যবহারকারী আছেন এবং টোল লেনদেনের প্রায় ৯৮ শতাংশ বৈদ্যুতিনভাবে হয়। এত বড় ব্যবস্থায় দ্বৈত ট্যাগ, ভুল কালো তালিকা, বন্ধ ওয়ালেট ও ফেরত না-পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একই গাড়িতে একাধিক সক্রিয় ট্যাগ থাকলে ভুল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা বা টোলপথে ট্যাগ অকার্যকর দেখানোর ঝুঁকি থাকে।
ওয়ানট্যাগ ইস্যুকারী পরিবর্তন সহজ করে, কিন্তু টোলের হার বা ওয়ালেটের ন্যূনতম অর্থ বদলায় না। স্থানীয় যাতায়াত ছাড়, বার্ষিক পথ-সুবিধা বা নির্দিষ্ট দ্রুতপথের আলাদা পাসের নিয়মও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলাবে না। নতুন ইস্যুকারীর গ্রাহকসেবা, স্বয়ংক্রিয় পুনর্ভরণ, ওয়ালেট-শর্ত এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আলাদা হতে পারে।
স্থানান্তরের সময়ে পুরনো ট্যাগ খুলে ফেলা বা দ্বিতীয় ট্যাগ কেনা উচিত নয়, যদি না সরকারি প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে তা চায়। গাড়ির নিবন্ধন, মোবাইল নম্বর এবং পরিচয়-নথিতে অমিল থাকলে আগে সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে। যাচাই-সংকেত কোনও অচেনা ব্যক্তি বা ফোনকারীকে দেওয়া নিরাপদ নয়।
বিশ্লেষণ: পরিষেবা বদলের অধিকার প্রতিযোগিতা বাড়ায়। এত দিন নতুন স্টিকার কেনা ও পুরনোটি নিষ্ক্রিয় করার ঝামেলা গ্রাহককে দুর্বল পরিষেবাতেও আটকে রাখত। এখন ব্যাঙ্কগুলিকে ফেরতের গতি, অ্যাপের মান ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
তবে আসল পরীক্ষা স্থানান্তরের দিন নয়, পরের টোলপথে। পুরনো ও নতুন ইস্যুকারীর মধ্যে তথ্য সমন্বয় ব্যর্থ হলে গ্রাহক বৈধ অর্থ থাকা সত্ত্বেও দ্বিগুণ টোল বা যাত্রাবাধার মুখে পড়তে পারেন। কর্তৃপক্ষের উচিত স্থানান্তরের সময়, ব্যর্থতার হার ও ফেরতের গড় সময় প্রকাশ করা। বহনযোগ্যতা কার্যকর তখনই, যখন বদলের স্বাধীনতা নতুন প্রশাসনিক ঝামেলা তৈরি করে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



