৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ! ফিফার কাছে সদস্য দেশের জন্য অর্থ দাবি উয়েফার

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: ফিফার আর্থিক সঞ্চয় স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করে ২১১টি সদস্য সংস্থার প্রত্যেককে ২০২৭–৩০ চক্রে অন্তত এক কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন…
- ১৮ সেপ্টেম্বর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পাঠানো তাঁদের চিঠি অনুযায়ী, মোট এককালীন বিতরণের অঙ্ক প্রায় ২১০ কোটি ডলার।
- দুই মহাদেশীয় সংস্থার প্রধান একই সঙ্গে ফিফার সহসভাপতি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: ফিফার আর্থিক সঞ্চয় স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করে ২১১টি সদস্য সংস্থার প্রত্যেককে ২০২৭–৩০ চক্রে অন্তত এক কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মনতালিয়ানি। ১৮ সেপ্টেম্বর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পাঠানো তাঁদের চিঠি অনুযায়ী, মোট এককালীন বিতরণের অঙ্ক প্রায় ২১০ কোটি ডলার।
দুই মহাদেশীয় সংস্থার প্রধান একই সঙ্গে ফিফার সহসভাপতি। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩–২৬ আর্থিক চক্র শেষে ফিফার সংরক্ষিত অর্থ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে—সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই হিসাব এখনও নিরীক্ষিত চূড়ান্ত ফল নয়; ২০২২–২৫ সালের প্রকাশিত হিসাব, ২০২৬ সালের অনুমান এবং পরবর্তী চক্রের কয়েকটি ধারণা মিলিয়ে তৈরি প্রাথমিক বিশ্লেষণ।
প্রস্তাবিত অর্থ বর্তমান ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ উন্নয়ন কর্মসূচির অতিরিক্ত হবে। সদস্য দেশগুলি মাঠ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, মহিলা ও যুব ফুটবল, প্রশিক্ষক শিক্ষা অথবা প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। এক কোটি ডলার ছোট ফুটবল সংস্থার জন্য বিপুল; বড় ইউরোপীয় সংস্থার মোট বাজেটে তুলনামূলক ছোট।
চিঠির পটভূমিতে রয়েছে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা। সেখানে ফিফার প্রতিযোগিতার ব্যবসায়িক স্বার্থের একটি অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে উন্নয়ন তহবিল বাড়ানোর ভাবনা ছিল। সদস্যদের বিরোধিতার পরে পরিকল্পনাটি বাতিল হয়। চেফেরিন ও মনতালিয়ানির প্রশ্ন—নিজস্ব ভাণ্ডারেই যদি এত অর্থ থাকে, প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ আয়ের অংশ বিক্রির প্রয়োজন হয়েছিল কেন?
তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২১০ কোটি ডলার বিতরণের পরেও পরবর্তী চক্রে ফিফার সঞ্চয় কোনও সময়ে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের নিচে নামবে না। তাঁদের দাবি, সেটিও ফিফার নিজের আগের ন্যূনতম সঞ্চয়-পরিকল্পনার চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে এই পূর্বাভাস আয়োজিত প্রতিযোগিতার রাজস্ব, ব্যয় ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির অনুমানের উপর নির্ভরশীল।
এই কারণেই তাঁরা সম্পূর্ণ হিসাব ও অনুমানে প্রবেশাধিকারসহ স্বাধীন পর্যালোচনা চেয়েছেন। ফল পাওয়ার পরে ফিফা কাউন্সিল কত অর্থ ছাড়া যায় এবং ২০৩১–৩৪ চক্রেও একই ধরনের বণ্টন সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করতে পারে। অন্য চার মহাদেশীয় সংস্থার সভাপতিদের সমর্থনও চাওয়া হবে।
চিঠির রাজনৈতিক ভাষ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ: উন্নয়নের অর্থ যেন সভাপতির অনুগ্রহ বলে মনে না-হয় এবং অর্থ পাওয়ার আশায় সদস্যরা অন্য প্রস্তাবে স্বাধীন মত দিতে ভয় না-পায়। ফিফা রয়টার্সের প্রশ্নে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। তাই ৬০০ কোটি ডলার বা প্রস্তাবিত বণ্টনকে অনুমোদিত সিদ্ধান্ত বলা যাবে না।
বিশ্লেষণ: সদস্যদের বেশি অর্থ দেওয়া শুনতে নিঃশর্ত ভালো, কিন্তু তদারকি ছাড়া বড় বণ্টন স্থানীয় দুর্নীতি, অপচয় বা রাজনৈতিক আনুগত্য কিনতেও ব্যবহৃত হতে পারে। প্রতিটি অনুদানের প্রকল্প, দরপত্র, অগ্রগতি ও স্বাধীন নিরীক্ষা প্রকাশ করতে হবে।
একই সঙ্গে সব দেশকে সমান এক কোটি ডলার দেওয়া ন্যায্যতার একমাত্র সূত্র নয়। ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও বিশ্বকাপ আয়োজনকারী বৃহৎ দেশের প্রয়োজন ও বাস্তবায়নক্ষমতা এক নয়। একটি ন্যূনতম সমান বরাদ্দের সঙ্গে জনসংখ্যা, মহিলা অংশগ্রহণ, পরিকাঠামোর ঘাটতি এবং পূর্ববর্তী অর্থব্যবহারের মান যুক্ত করা যেতে পারে। প্রথম কাজ অবশ্য হিসাব খোলা—ফিফার ভাণ্ডারে ঠিক কত আছে, কারও রাজনৈতিক দাবির উপর নয়, স্বাধীন নিরীক্ষাতেই তার উত্তর প্রয়োজন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



