বাংলাস্ফিয়ার: মুম্বইয়ে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বম্বে হাইকোর্টে কর্মরত ১৪০ জনেরও বেশি আইনজীবী। তাঁদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার ভারতের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার, সেটিকে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে খর্ব করা যায় না।
এক যৌথ বিবৃতিতে আইনজীবীরা মুম্বই পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, একটির পর একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে কার্যত আইনি বিধিনিষেধকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৯(১)(বি) অনুচ্ছেদ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই কোনও প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের নামে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে সেই সাংবিধানিক অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। আইনজীবীদের মতে, আদালতের একাধিক রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে নির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে এর চেয়ে কম কঠোর বিকল্প ব্যবস্থা সম্ভব ছিল না।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে একাধিক বিশিষ্ট সিনিয়র আইনজীবীও রয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গণহারে আটক ও গ্রেফতারের ঘটনাও উদ্বেগজনক। পুলিশের কাছে তাঁদের আবেদন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনও কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে সংবিধানসম্মত অধিকার রক্ষায় সংযম দেখানো হোক।
অন্যদিকে বম্বে বার অ্যাসোসিয়েশনও পৃথক প্রস্তাবে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনই প্রতিবাদের নামে হিংসা বা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করাও কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারা পুলিশের কাছে সংযম, আনুপাতিক বলপ্রয়োগ এবং নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।