Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: অ্যাপল সোমবার ঘোষণা করেছে যে তাদের দীর্ঘদিনের প্রধান নির্বাহী টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান জন টার্নাস দায়িত্ব নেবেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে। কুক নিজে কোম্পানি ছেড়ে যাচ্ছেন না। তিনি এক্সিকিউটিভ চেয়ার হিসেবে থাকবেন এবং বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে অ্যাপলের যোগাযোগ রক্ষার কাজ করবেন। কুক নিজে বলেছেন, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য, এবং এই অসাধারণ কোম্পানির নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অমূল্য।
কুকের নেতৃত্বে অ্যাপলের সোনালি দেড় দশক
কুক ২০১১ সালে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তখন তাঁর বয়স ছিল পঞ্চাশের কোঠায়, এবং জবসের মৃত্যুর পর একটি কিংবদন্তি কোম্পানিকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে পড়েছিল যা মোটেও সহজ ছিল না।
কুক মূলত পরিচিত ছিলেন তাঁর অপারেশনাল দক্ষতা এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার জন্য। জবস যেখানে ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, কুক ছিলেন একজন নিখুঁত কার্যনির্বাহক। সমালোচকরা প্রায়ই বলেছেন যে তিনি জবসের মতো প্রযুক্তি দূরদর্শী নন তবে সংখ্যার বিচারে তাঁর সাফল্য অনস্বীকার্য।
তাঁর আমলে অ্যাপলের বাজারমূল্য ৩৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বার্ষিক মুনাফা ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আইফোন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি চীনে নতুন করে চাহিদা বেড়েছে। অ্যাপল ওয়াচ এবং এয়ারপডস বাজারে এসেছে এবং নতুন পণ্য বিভাগ তৈরি করেছে। অ্যাপল মিউজিক ও অ্যাপল টিভি প্লাসের মতো সেবা চালু হয়েছে, যা কোম্পানিকে হার্ডওয়্যার নির্ভরতার বাইরে নিয়ে গেছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও কুক ছিলেন দক্ষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং — দুজনের সঙ্গেই সফলভাবে সম্পর্ক রেখে অ্যাপলের বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এই দক্ষতাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল।
জন টার্নাস — নতুন অধ্যায়ের নায়ক
পঞ্চাশ বছর বয়সী টার্নাস ২০০১ সাল থেকে অ্যাপলে কাজ করছেন। তিনি জবসের অধীনে কাজ শুরু করেছিলেন, কুককে মেন্টর মানেন। অ্যাপল ওয়াচ এবং এয়ারপডসের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তাঁর সরাসরি ভূমিকা ছিল। কুক বলেছেন টার্নাসের মধ্যে আছে “একজন ইঞ্জিনিয়ারের মন এবং একজন উদ্ভাবকের আত্মা।”
টার্নাস নিজে বলেছেন, এই দায়িত্ব নিতে পেরে তিনি বিনম্র বোধ করছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে অ্যাপলের অর্ধশতাব্দীর মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি বহন করে নেতৃত্ব দেবেন।
সামনের চ্যালেঞ্জ
টার্নাস একটি অত্যন্ত সফল কিন্তু প্রশ্নের মুখে পড়া কোম্পানির দায়িত্ব নিচ্ছেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন যে অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঢেউয়ে প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। সিরিতে তৃতীয় পক্ষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু সেটা যথেষ্ট নয় বলে অনেকে মনে করেন। ভিশন প্রোর মতো উচ্চাভিলাষী পণ্য বাজারে প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। আইফোন ও কম্পিউটার বিক্রি এখনো শক্তিশালী, কিন্তু পরবর্তী বড় উদ্ভাবন কোথা থেকে আসবে — সেই উত্তর এখনো অস্পষ্ট।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, কুক অ্যাপলকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত করে গেছেন। টার্নাসের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো সেই উচ্চতা ধরে রাখার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগে অ্যাপলকে আবার অগ্রগামী করে তোলা।