বাংলাস্ফিয়ার: মণিপুরে অপহৃত নাগা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি ও কম্বিং অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিংয়ের উত্তরসূরি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই. খেমচাঁদ সিং। একই সঙ্গে অপহরণ-কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে একটি ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে একক জরুরি নম্বর ‘১১২’-এর মাধ্যমে ট্রমা কেয়ার পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

মণিপুরের কাঙপোকপি জেলায় পরিস্থিতি পর্যালোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপহৃতদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরও অভিযান চালানো হচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরে জাতিগত সংঘাত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নানা সমস্যার কারণে মণিপুর বারবার জাতীয় সংবাদে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এই অপহরণ-কাণ্ড সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জিম্মিদের দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে দিল্লিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে জরুরি ট্রমা কেয়ার পরিষেবা কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং সংবিধানের অধীনে নাগরিকের ‘জীবনের অধিকার’-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে দুর্ঘটনা, সহিংসতা বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পেতে পারেন।

এই উদ্দেশ্যে আদালত ‘১১২’ নম্বরকে সর্বভারতীয় জরুরি ট্রমা সহায়তা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলিকে নিয়মিত অগ্রগতি-রিপোর্ট জমা দিতে এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভারতে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনা, সহিংসতা এবং অন্যান্য জরুরি ঘটনার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান, যাঁদের অনেককেই সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া গেলে বাঁচানো সম্ভব হতো। একক জরুরি নম্বর এবং দ্রুত ট্রমা প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চালু হলে সেই মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে।

একদিকে মণিপুরে অপহরণ ও নিরাপত্তা-সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপ, অন্যদিকে সারা দেশে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে উন্নীত করার সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগ—দুটি ঘটনাই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও মানবিক সুরক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই পদক্ষেপগুলির সাফল্য।