চরম উত্তেজনাকর এবং নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হলো ইসরায়েলের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন। প্রাথমিক ভোট গণনা ও বুথফেরত সমীক্ষায় তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুদ (Likud) পার্টি এবং ডানপন্থী জোট দেশের সংসদে বৃহত্তম একক শক্তি হিসেবে উঠে আসতেই উচ্ছ্বসিত ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। মধ্যরাতের পর জেরুজালেমে আয়োজিত এক জমকালো দলীয় সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি আত্মবিশ্বাসের সুর চড়িয়ে দাবি করেন যে, বিগত কয়েক বছরে তাঁর সরকারের সাহসী পদক্ষেপের ফলেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্র চিরতরে বদলে গিয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত লিকুদ কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, "আমাদের সাহসী সিদ্ধান্ত, দেশের সাধারণ মানুষের অটল বিশ্বাস এবং সর্বপরি আমাদের বীর সেনাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা এমন কিছু অলৌকিক সাফল্য অর্জন করেছি, যা মধ্যপ্রাচ্যের মুখই বদলে দিয়েছে।" বিগত বছরগুলিতে হামাস ও হিজবুল্লার শীর্ষ নেতৃত্বকে একে একে খতম করা, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা এবং সরাসরি ইরানের সামরিক হুমকিকে ব্যর্থ করার বিষয়গুলি নিজের ভাষণে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।
যদিও নির্বাচনে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের (Gadi Eisenkot) নেতৃত্বাধীন জোট তাঁকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল এবং কোনো দলই এককভাবে ৬১টি আসনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পর্শ করতে পারবে কি না তা নিয়ে টানাটানি চলছে, তাও লিকুদ পার্টি বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসায় রাজনৈতিক মোড় নিজেদের দিকেই রয়েছে বলে দাবি নেতানিয়াহু শিবিরের। ৭৪ শতাংশেরও বেশি রেকর্ড ভোটদানের পর এই ঐতিহাসিক ফল প্রকাশের মুখে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েল আজ যে অদম্য শক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বজায় রাখতে ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী দলগুলিকে একজোট হয়ে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলের পর আগামী দিনগুলিতে জোট সরকার গঠনের লড়াই কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জল রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।