জেরুজালেম/রিয়াদ:

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ইয়েমেনের হুতি (Houthi) বিদ্রোহীদের বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। তেহরান বা ইরানের সরাসরি মধ্যস্থতায় এই গোপন বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা আলোচনা এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতির মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নের নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করছে ইরান। আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং সৌদি আরবের তেল ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর হুতিদের ড্রেন ও মিসাইল হামলা চিরতরে বন্ধ করার শর্তেই এই বিশাল অংকের আর্থিক সহায়তা বা অনুদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে চলা ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে সৌদি জোট এবং হুতিদের লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক শক্তির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Saudi Arabia’s Crown Prince and Prime Minister, Mohammed bin Salman bin Abdulaziz Al Saud (File Photo/X@KSAmofaEN)

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী মোড় নিতে পারে। একদিকে ইয়েমেনে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও ইরানের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। যদিও সৌদি আরব বা হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এই ১ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্রস্তাব বা ইরান-মধ্যস্থতাকারী চুক্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ও নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবুও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই খবরটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।