মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জাতীয় সুরক্ষার নানা সমীকরণের মধ্যেই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করল ইসরায়েল। দেশজুড়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে মোট ১২,০১৮টি পোলিং স্টেশন বা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া মসৃণভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি নির্বাচনী কর্মী ও আধিপত্যশীল কর্মকর্তাকে মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে।

এবারের এই মেগা নির্বাচনে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এবং দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে প্রায় ৭৩ লক্ষেরও বেশি (৭.৩ মিলিয়নের অধিক) নথিভুক্ত ভোটার প্রস্তুত হচ্ছেন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি কোণায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিক, বয়োবৃদ্ধ এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে আলাদা ও বিশেষ ভোটগ্রহণের বন্দোবস্ত।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের এই সাধারণ নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও প্রতিরক্ষানীতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে। জাতীয় আইনসভা 'নেসেট' (Knesset)-এর ভাগ্য নির্ধারণে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জোর লড়াইয়ের পূর্বাভাস মিলছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রগুলিতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর এক বিশাল বহর তৈরি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা বজায় রেখে শত শতাংশ স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা ও দ্রুত ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের কাজ শেষ করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।