ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে না, তা অর্জন করতে হবে—এই অবস্থানেই অনড় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ব্রিটেনে।

গত বছর কিয়ের স্টারমারের সরকারের আমলে অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের খসড়া প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য সাধারণ ন্যূনতম অপেক্ষার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত ‘আর্নড সেটলমেন্ট’ বা ‘অর্জিত স্থায়ী বসবাসের অধিকার’ ব্যবস্থায় আয়, অভিবাসনবিধি মেনে চলা এবং অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তিতে এই সময়সীমা কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারেন ভারতীয় অভিবাসীরা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের হিসাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ নিয়ে গঠিত ‘ইইউ প্লাস’ অঞ্চলের বাইরে থেকে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের মধ্যে ভারতীয়রাই ছিলেন বৃহত্তম গোষ্ঠী।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, সকালে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা খুব শিগগিরই জানাব।” তাঁর বক্তব্য, চলতি বছরের গোড়ায় জনমত গ্রহণের মাধ্যমে যে মতামতগুলি পাওয়া গিয়েছে, সরকার এখনও সেগুলি খতিয়ে দেখছে।

গত কয়েক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কঠোর নিয়ম কিছুটা শিথিল করতে পারে সরকার। ২০২০-এর দশকের গোড়ায় ব্রিটেনে অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির যে পর্বকে ‘বরিসওয়েভ’ বলা হয়, সেই সময়ে আসা অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন এই কর্মীরা। তাঁদের অনেকেই এখন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠছেন।

বার্নহ্যামের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর ব্রিটেনের পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো এগোয়নি। তাঁর কথায়, দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে এবং অভিবাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠেছে। অভিবাসীদের সাময়িকভাবে আসা-যাওয়ার পরিবর্তে স্থায়ীভাবে ব্রিটেনে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সপ্তাহান্তে ‘দ্য সানডে টাইমস’ জানিয়েছিল, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা ফের চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রস্তুত বার্নহ্যাম। এই ব্যবস্থায় দুই পক্ষের নাগরিকদের একে অন্যের ভূখণ্ডে বসবাস ও কাজ করার অধিকার থাকবে।

সোমবারের সাক্ষাৎকারেও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বার্নহ্যাম। তিনি জানান, জীবদ্দশায় ব্রিটেনকে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে দেখতে চান। তবে এ ক্ষেত্রে জনমতের বিরোধিতা করে এগোতে রাজি নন তিনি।

বার্নহ্যামের কথায়, “এখানে ব্রিটিশ জনগণই শেষ কথা বলবেন। ব্রেক্সিটের ব্যাপারে কী হবে, তা তাঁরাই ঠিক করবেন।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার প্রস্তাব নিয়ে জনসাধারণ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতেই তিনি এমন মন্তব্য করছেন—এই ধারণাও উড়িয়ে দিয়েছেন বার্নহ্যাম।

এদিকে, আগামী ২০ নভেম্বরের শীর্ষ বৈঠকে কৃষি, অভিবাসন-সহ একাধিক বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আগাম সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন বার্নহ্যাম। বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।

অনুবাদকের নোট: মূল প্রতিবেদনে ২০১৬ সালে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোট হয়েছিল। ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ে ৩১ জানুয়ারি ২০২০।