লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’-এর প্রিমিয়ারে পা রেখেই নজর কেড়ে নিলেন যশ। কালো জ্যাকেট, কালো রোদচশমা—সবই ছিল চেনা ছকে। কিন্তু আসল চমক লুকিয়ে ছিল বুকের কাছে। সেখানেই ঝলমল করছে সোনালি ব্রোচ, যার নকশায় ফুটে উঠেছে রাবণের দশটি মাথা! পর্দায় লঙ্কেশের ভূমিকায় দেখা যাওয়ার আগেই সাজে যেন চরিত্রের আভাস দিয়ে গেলেন অভিনেতা।
যশের কাছ থেকে যে চমকপ্রদ সাজের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হল একেবারে অন্যভাবে। পোশাকের জৌলুস নয়, বরং তার বুকে বসানো দশাননের ব্রোচটিই হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রে। সূক্ষ্ম কারুকাজে তৈরি অলংকারটির সঙ্গে ঝুলছে সোনালি চেন। সম্পূর্ণ কালো পোশাকের মধ্যে সোনালি আভা যেন আরও উজ্জ্বল। সাজে বাড়তি আড়ম্বর নেই, অথচ চোখ ফেরানোও দায়!
এই সাজের পিছনে রয়েছে চরিত্রের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির ভাবনা। রামায়ণের কাহিনিতে রাবণের রাজ্য লঙ্কা সোনার নগরী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, রামলীলার বহু জনপ্রিয় উপস্থাপনায় রাবণকে দেখা যায় কালো পোশাকে। সেই কালোর সঙ্গে সোনালির মেলবন্ধনেই যেন ধরা পড়েছে লঙ্কেশের আভিজাত্য ও দাপট। ফলে ব্রোচটি নিছক ফ্যাশনের অনুষঙ্গ নয়, চরিত্রের পরিচয় বহনকারী এক বিশেষ প্রতীকও।
ব্রোচটির নকশা কার, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যশের দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট সানিয়া সরধারিয়ার নাম উঠে এসেছে।
ত্রিশূলেও ছিল চমক!
পৌরাণিক চরিত্রের অনুষঙ্গকে আধুনিক ফ্যাশনে মিশিয়ে দেওয়ার কৌশল যশের কাছে অবশ্য নতুন নয়। জুলাইয়ে সান দিয়েগো কমিক-কনেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল কালো পোশাকে। সেবার ব্লেজারের বুকে ছিল সোনালি ত্রিশূলের আদলে তৈরি ব্রোচ।
সেখানেও লুকিয়ে ছিল ‘রামায়ণ’-এর রাবণের ইঙ্গিত। রাবণ ছিলেন শিবের একনিষ্ঠ উপাসক। আর ত্রিশূল মহাদেবের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। ফলে সেই অলংকারও নিছক সাজসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
দু’বারের সাজেই যশের কৌশল স্পষ্ট—আধুনিক পোশাকের সঙ্গে পৌরাণিক প্রতীক জুড়ে দিয়ে চরিত্রের আবহ তৈরি করা। তবে এবারের ব্রোচে চমকের মাত্রা আরও বেশি। দশটি মাথা, সোনালি কারুকাজ আর ঝুলন্ত চেন—সব মিলিয়ে এটি যেন কালো জ্যাকেটের বুকে বসানো এক টুকরো শিল্পকর্ম। পোশাকের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি চরিত্রের সঙ্গে দর্শকের পরিচয়ও করিয়ে দিচ্ছে এই অলংকার।
রুচিতে তিন, তিন স্বাদ
লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রিমিয়ারে সাজের দৌড়ে পিছিয়ে ছিলেন না রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবীও। রামের ভূমিকায় অভিনয় করা রণবীর বেছে নিয়েছিলেন হালকা রঙের বন্ধগলা পোশাক। তাতে রুপোলি কাজের সূক্ষ্ম ছোঁয়া, সঙ্গে গাঢ় রঙের ট্রাউজার্স। তাঁর সাজে ছিল চিরায়ত আভিজাত্য, আর পোশাকের সুগঠিত কাটে ফুটে উঠেছিল পরিমিত রুচি।
অন্যদিকে, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবীকে দেখা গেল রুপোলি অলংকরণযুক্ত ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে। মানানসই গয়না ও হালকা প্রসাধনে তাঁর সাজ ছিল স্নিগ্ধ, অথচ নজরকাড়া। আন্তর্জাতিক লাল গালিচায় ভারতীয় পোশাকের নিজস্ব সৌন্দর্য তুলে ধরতে বাড়তি আড়ম্বরের প্রয়োজন পড়েনি তাঁর।
তিন তারকা, তিন রকমের সাজ। রণবীরের পোশাকে চিরায়ত আভিজাত্য, সাই পল্লবীর সাজে ভারতীয় ঐতিহ্য, আর যশের কালো জ্যাকেটে পৌরাণিক চমক। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে থেকে গেল সেই সোনালি দশানন—যা বুঝিয়ে দিল, কখনও কখনও গোটা পোশাকের চেয়েও একটি ছোট্ট অনুষঙ্গই হয়ে উঠতে পারে আসল আকর্ষণ।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।