বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং শিল্প উদ্ভাবনে নিজেদের অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ইউরোপের ফ্ল্যাগশিপ গবেষণা ও উদ্ভাবন ফান্ডিং উদ্যোগ ‘হরাইজন ইউরোপ’ (Horizon Europe) প্রোগ্রামে ভারতের সহযোগী দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত আলোচনা সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। মোট ৯৩.৫ বিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৯.৩ হাজার কোটি ইউরো) এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে চলাই ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উভয় দেশের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি অনুমোদন এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই অংশীদারিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি ও শিল্পসংস্থাগুলি সরাসরি ‘হরাইজন ইউরোপ’ থেকে আর্থিক অনুদান পেতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে প্রকল্পের ‘দ্বিতীয় স্তম্ভ’ বা পিলারের অধীনে স্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত কম্পিউটিং, মহাকাশ প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি (Clean Energy) এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় বিজ্ঞানীরা ইউরোপের গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে ইইউ-এর স্টার্টআপ, গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিভা (Ekaterina Zaharieva) জানান, এই চুক্তি উভয় পক্ষের ব্যবসাসংস্থা ও গবেষকদের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। ইউরোপ ও ভারত যৌথভাবে কাজ করে আগামী দিনের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ তৈরি করবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন। কূটনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক মহল মনে করছে, ভারত সরকারের এই বৈদেশিক বৈজ্ঞানিক সমঝোতা আগামী দিনে দেশের প্রযুক্তি ব্যবস্থা ও স্টার্টআপ সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও জোরালো সমর্থন ও স্বীকৃতি এনে দেবে।