অসুস্থতা আর বোমা হামলার হুমকি—কোনও কিছুই আটকে রাখতে পারল না অমিতাভ বচ্চনকে। মুম্বইয়ের বাড়ি ‘জলসা’র সামনে রবিবার অনুরাগীদের দর্শন দিলেন বলিউডের শাহেনশাহ। ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়ার সময় পাশে ছিলেন ছেলে অভিষেক বচ্চন।

৮৪ বছরের অমিতাভ গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন, সুস্থ হয়ে উঠতে তাঁকে কয়েক দিন বিশ্রাম নিতে হবে। কিন্তু অনুরাগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টান যে বড় কম নয়! রবিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই জলসার ফটকে হাজির হলেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে বাবাকে সঙ্গ দিলেন অভিষেকও।

অমিতাভের এই ‘রবিবারের দর্শন’ বহু বছর ধরেই মুম্বইয়ে তাঁর অনুরাগীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। প্রিয় অভিনেতাকে এক ঝলক দেখতে প্রতি রবিবারই জলসার সামনে ভিড় জমান তাঁরা। অসুস্থতার মধ্যেও সেই রীতি বজায় রাখায় সমাজমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেতা।

ইনস্টাগ্রামে এক অনুরাগী লিখেছেন, “অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও অনুরাগীদের ভালোবাসার টানে তিনি এসেছেন।” আর এক জনের প্রার্থনা, “ঈশ্বর ওঁকে সুস্থ রাখুন।” তৃতীয় এক জন লিখেছেন, “শেষ পর্যন্ত এই ভালোবাসাটুকুই থেকে যায়। অমিতাভ স্যরের বয়স বাড়ছে, তবুও অনুরাগীদের জন্য প্রতি রবিবার তিনি হাজির হন।” অন্য এক অনুরাগীর কথায়, “ওঁর প্রাণশক্তিকে কুর্নিশ।”

বাবার পাশে থেকে তাঁকে সমর্থন জোগানোর জন্য প্রশংসা পেয়েছেন অভিষেকও। জলসার সামনে বাবা-ছেলেকে একসঙ্গে দেখে অনেকেই মুগ্ধ। অনুরাগীদের চোখে ধরা পড়েছে অভিষেকের যত্ন ও বাবার প্রতি ভালোবাসা।

এদিকে, ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি)-র সঞ্চালক অমিতাভ সম্প্রতি বিশ্রামের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। ২১ অক্টোবর এক্সে তিনি লেখেন, “দুঃখিত। ক্ষমা চাইছি। বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য আমাকে কয়েক দিন সময় নিতে বলা হয়েছে। তাই কিছু লিখতে পারছি না।”

দু’দিন পর, ২৩ অক্টোবর, এক্সে ফিরে সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন, “চলুন।” নিজের ব্লগেও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে লেখেন, “আরও বিশ্রাম প্রয়োজন… মানিয়ে নিচ্ছি… চিন্তা করছি, ভাবছি… মানবদেহ এবং তার অনন্যতা।”

অসুস্থতার পাশাপাশি অমিতাভের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। হুমকির জেরে বাড়ানো হয়েছে তাঁর নিরাপত্তা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, মুম্বই পুরসভার কাছে একটি হুমকি-ইমেল আসে। সেখানে ‘স্মিথ জনসন’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ৩১ অক্টোবর জুহুতে অমিতাভের বাড়িতে গ্রেনেড হামলার হুমকি দেয়।

ওই ইমেলে অমিতাভের পাশাপাশি গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দু’জনেই খলিস্তানপন্থী একটি গোষ্ঠীর নিশানায় রয়েছেন।

১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের মুখে পড়েছেন অমিতাভ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর শিখদের উপরে হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে কয়েকটি শিখ সংগঠন ও কিছু ব্যক্তি। তবে অমিতাভ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত বছর কেবিসি-তে অতিথি হিসেবে এসে অমিতাভের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন দিলজিৎ। সেই ঘটনায় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সমালোচনার মুখে পড়েন গায়ক। তাদের অভিযোগ ছিল, ওই আচরণের মাধ্যমে দিলজিৎ ১৯৮৪ সালের হিংসার শিকার মানুষদের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন।