আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টস এবং রেসিংয়ের দীর্ঘ ও সোনালী ইতিহাসকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ সংস্করণের (Special Edition) সুপারবাইক বাজারে আনল বিখ্যাত ইতালীয় মোটরমেকার Aprilia। অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক Phillip Island সার্কিটে ব্র্যান্ডটির অসামান্য সাফল্য এবং ১০টি গ্রাঁ প্রি জয়ের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে নতুন 'Aprilia RS 660 Phillip Island Tribute' মডেলটি প্রকাশ করা হয়েছে। নজরকাড়া রেসিং গ্রাফিক্স, এক্সক্লুসিভ কালার স্কিম এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের এই লিমিটেড এডিশন বাইকটি আগামী নভেম্বরে মিলানে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্বখ্যাত EICMA মোটরসাইকেল প্রদর্শনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসমক্ষে আনা হবে।

Phillip Island Tribute তৈরির পেছনের গল্প

মোটোজিপি (MotoGP) সহ আন্তর্জাতিক মোটরসাইকেল প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হলো এই Phillip Island সার্কিট। এই ট্র্যাকে Aprilia-র সাফল্যের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ, যেখানে তাদের ঝুলিতে রয়েছে মোট ১০টি গ্রাঁ প্রি জয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের মোটোজিপি সিজনে, যখন রাউল ফার্নান্দেজ (Raul Fernandez) কোম্পানির RS-GP বাইক চালিয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেন। ওই একটি জয়ের মাধ্যমেই বিশ্ব মোটরসাইকেল চ্যাম্পিয়নশিপে ৩০০টি গ্রাঁ প্রি জয়ের জাদুকরী মাইলফলক স্পর্শ করে Aprilia, যা ইউরোপীয় মোটর ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে তাদের রেসিং ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

মনকাড়া ডিজাইন ও রেসিং সার্কিটের ছোঁয়া

নতুন এই RS 660 ট্রাইব্যুট সংস্করণের ডিজাইনে মূল ভিত্তি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ক্লাসিক সাদা রঙকে। এর সঙ্গে বাইকের সাইড প্যানেল ও পিছনের বডিওয়ার্কে স্পোর্টি সবুজ রঙ এবং চাকার রিমগুলিতে আকর্ষণীয় লাল রঙের নিখুঁত ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত Phillip Island সার্কিটের অফিসিয়াল লোগোর রঙ থেকেই এই নান্দনিক ডিজাইনের অনুপ্রেরণা মিলেছে।

বাইকের গায়ে রয়েছে সার্কিটের নিজস্ব লেআউট, নাম এবং চেকার্ড ফ্ল্যাগের বিশেষ গ্রাফিক্স। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ওপর বসানো হয়েছে এক্সক্লুসিভ ব্যাজ, যা সার্কিটে কোম্পানির জয়ের সংখ্যা মনে করিয়ে দেয়। এছাড়া প্রতিটি বাইকের স্টিয়ারিং হেড প্লেটে আলাদা সিরিয়াল নম্বর খোদাই করা থাকবে। স্ট্যান্ডার্ড সরঞ্জাম হিসেবে এতে থাকছে একটি আকর্ষণীয় পিলিয়ন সিট কভার, যা বাইকটির ওভারঅল স্পোর্টি লুককে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শক্তিশালী ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স

স্পেশ্যাল এডিশন হলেও বাইকটির মূল মেকানিক্যাল কাঠামো ও ইঞ্জিন কনফিগারেশনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এতে রয়েছে পরীক্ষিত ও শক্তিশালী ৬৬০ সিসির লিকুইড-কুলড, চার-ভালভ বিশিষ্ট প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন। এই শক্তিশালী ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ১০,৪০০ rpm-এ ১০৩.৫ bhp শক্তি এবং ৮,৪০০ rpm-এ ৭০ Nm টর্ক উৎপন্ন হয়। একটি হালকা ও দৃঢ় অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এই ইঞ্জিনটিকে, যা বাইকের সামগ্রিক কাঠামোর একটি অংশ হিসেবে কাজ করে। এর ফলে হাই-স্পিড ট্র্যাকিং হোক কিংবা শহরের রাস্তা—উভয় ক্ষেত্রেই এটি নিখুঁত হ্যান্ডলিং ও কমপ্যাক্ট রাইডিং অভিজ্ঞতা দেয়।

অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স ও রাইডার সেফটি

রাইডারদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে Aprilia-র নিজস্ব সর্বাধুনিক aPRC ইলেকট্রনিক প্যাকেজ যুক্ত করা হয়েছে এই বাইকে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • পরিবর্তনযোগ্য ট্র্যাকশন কন্ট্রোল ও হুইলি কন্ট্রোল

  • ইঞ্জিন ব্রেকিং কন্ট্রোল এবং কর্নারিং ABS

  • Ride-by-Wire থ্রটল সিস্টেম এবং একাধিক রাইডিং মোড

  • ছয়-অক্ষের Inertial Measurement Unit (IMU), যা বাইকের গতিবিধি ও ব্যালেন্স নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে

  • লঞ্চ কন্ট্রোল, বাই-ডিরেকশনাল কুইকশিফটার এবং লং রাইডের জন্য ক্রুজ কন্ট্রোল

ভারতে লঞ্চ ও প্রাপ্যতা

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, EICMA শো-তে প্রদর্শনের পর এই স্পেশ্যাল এডিশন বাইকটির নির্দিষ্ট উৎপাদন সংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এটি ভারতে কবে নাগাদ আসবে বা আদৌ লঞ্চ হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রস্তুতকারক সংস্থা। তা সত্ত্বেও, এপ্রিলিয়ার রেসিং প্রেমী এবং সংগ্রাহকদের (Collectors) কাছে এই বিশেষ মডেলটি যে এক পরম আকর্ষণের বস্তু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।