হাইলাইটস

  • ‘ভি ইন্টেলিজেন্স’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু করেছে ভোডাফোন আইডিয়া (ভি)

  • এর মূল কেন্দ্র মুম্বইয়ের ‘ভি ইন্টেলিজেন্স ল্যাব’, সহযোগী পিডব্লিউসি ইন্ডিয়া

  • ল্যাবের কাজ তিন ক্ষেত্রে: এজেন্টিক এআই, সহায়ক এআই এবং সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল এআই

  • সব প্রকল্প যাচাই হবে ভি-র দায়িত্বশীল এআই কাঠামো ‘গ্রেসি’-র মানদণ্ডে

  • ল্যাবের তৈরি কোনও পরিষেবা কবে বাজারে আসবে, তা এখনও জানায়নি সংস্থা

নতুন উদ্যোগ, নতুন ল্যাব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবসার কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে ভোডাফোন আইডিয়া (ভি)। ‘ভি ইন্টেলিজেন্স’ নামের এই উদ্যোগে সংস্থাটির সহযোগী পিডব্লিউসি ইন্ডিয়া। দুই সংস্থা মুম্বইয়ে একটি উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়বে, যার নাম ‘ভি ইন্টেলিজেন্স ল্যাব’। ভি-র অভ্যন্তরীণ কাজকর্মের পাশাপাশি গ্রাহক ও বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এআই-ভিত্তিক রূপান্তরে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

ভি জানিয়েছে, নিজেদের টেলিকম পরিকাঠামো এবং পিডব্লিউসি-র প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক পরামর্শের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের সমস্যা মেটানোর মতো এআই-সমাধান তৈরি করা হবে। নতুন ধারণা পরীক্ষা করে সেগুলিকে বাস্তব প্রয়োগে আনার কাজও করবে এই ল্যাব। পিডব্লিউসি ইন্ডিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দল মুম্বইয়ে ভি-র সঙ্গে কাজ করবে। প্রযুক্তি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি হবে পিডব্লিউসি-র একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ দল, যারা ভি-র সঙ্গে একই জায়গায় বসে কাজ করবে।

তিন ক্ষেত্রে জোর

ল্যাবের কাজের তিনটি ক্ষেত্র—এজেন্টিক এআই, সহায়ক এআই এবং সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল এআই। এজেন্টিক এআই নির্দিষ্ট কাজের একাধিক ধাপ নিজে থেকে সামলাতে পারে। গ্রাহক-পরিষেবা, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া ও টেলিকম পরিচালনায় এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখবে ভি। সহায়ক এআইয়ের লক্ষ্য কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো। তৃতীয় ক্ষেত্রে জোর থাকবে তথ্য দেশের ভিতরে রাখার নিয়ম, নৈতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা মেনে চলার উপর।

কর্মসূচির রূপরেখা

সংস্থার তরফে ল্যাবের জন্য পাঁচটি কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। এগুলি হল: নির্দিষ্ট শিল্পের সমস্যা মেটানোর সমাধান তৈরি ও পরীক্ষার জন্য ইনকিউবেশন প্রকল্প, নিজস্ব এআই মডেল ও প্রযুক্তি-সম্পদ তৈরি, বিশ্বের স্টার্টআপ ও ডেভেলপারদের নিয়ে ‘ভি এআই ওপেন হ্যাকাথন’, যাচাই হওয়া ধারণাকে পরীক্ষামূলক স্তর থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগে নিয়ে যাওয়ার ‘ট্রান্সফর্মেশন এআই ফ্যাক্টরি’ এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ। আন্তর্জাতিক এআই সংস্থা, স্টার্টআপ, শিক্ষা ও গবেষণা মহল এবং ব্যবসায়িক গ্রাহকদের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করবে ল্যাবটি।

দায়িত্বশীল ব্যবহারে ‘গ্রেসি’

ভি জানিয়েছে, তাদের ‘গ্রেসি’ কাঠামো মেনে তথ্য ও মেধাস্বত্বের নিরাপত্তা এবং এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ভি-র নিজস্ব দায়িত্বশীল এআই কাঠামো। ল্যাবে তৈরি প্রতিটি ব্যবহারের ক্ষেত্র এই কাঠামোয় যাচাই হবে। এআই-প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নৈতিক তথ্য-ব্যবহার, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা ও নিয়ম মানা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

দুই সংস্থার বক্তব্য

ভি-র চিফ টেকনোলজি অফিসার জগবীর সিং বলেছেন, মানুষ, ব্যবসা ও যন্ত্রকে যুক্ত করার কাজ টেলিকম বহুদিন ধরে করছে। ভবিষ্যৎ এখন বুদ্ধিমত্তার। বিশ্বমানের এআই দক্ষতা, কৌশলগত অংশীদারি ও নিজেদের ডিজিটাল পরিকাঠামো একসঙ্গে এনে ব্যবহারিক ও বড় মাপের এআই-প্রয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাহায্য করাই ল্যাবের উদ্দেশ্য। পিডব্লিউসি ইন্ডিয়ার টিএমটি বিভাগের অংশীদার ও প্রধান বিনীশ বাওয়া জানিয়েছেন, সংস্থাগুলি ক্রমশ স্বয়ংক্রিয় ও বুদ্ধিমান প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। এজেন্টিক রূপান্তরে নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে এআইয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তব সক্ষমতায় বদলাতে সাহায্য করবে পিডব্লিউসি ইন্ডিয়া।

এখনও যা স্পষ্ট নয়

তবে কবে থেকে এই ল্যাবের তৈরি কোনও নির্দিষ্ট পরিষেবা বাজারে আসবে, তা এখনও জানায়নি সংস্থা। আপাতত লক্ষ্য, এআই-ভিত্তিক ধারণাগুলিকে ব্যবসায়িক প্রয়োগের উপযোগী করে তোলা।