টেলিকম নেটওয়ার্ক ও পরিষেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই। গত ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার প্রকাশিত খসড়াটির নাম ‘গাইডলাইনস অন রেসপনসিবল ইউজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ইন টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কস অ্যান্ড প্রভিশন অব টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস’। এটি ট্রাইয়ের ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য রাখা হয়েছে। খসড়াটি এখনও চূড়ান্ত নিয়ম নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও পক্ষগুলির মতামত জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ নভেম্বর।

কারা আওতায়, কী প্রস্তাব

টেলিগ্রাফ আইন, ১৮৮৫-র অধীনে লাইসেন্স বা টেলিকমিউনিকেশনস আইন, ২০২৩-এর অধীনে অনুমোদনপ্রাপ্ত, এবং নেটওয়ার্ক বা পরিষেবায় এআই ব্যবহার করে বা করার পরিকল্পনা করছে, এমন সব সংস্থাই প্রস্তাবিত নির্দেশিকার আওতায় পড়বে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, টেলিকম সংস্থাগুলিকে তাদের ব্যবহৃত এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং মানুষের নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হতে পারে। কোনও এআই ব্যবস্থা সংস্থার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হোক বা তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে নেওয়া হোক, তার ফলাফলের দায় সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থার উপর থাকবে। খসড়ায় আরও প্রস্তাব রয়েছে, সংস্থাগুলিকে নিজেদের এআই ব্যবস্থাকে গুরুত্ব অনুযায়ী উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন ঝুঁকির শ্রেণিতে ভাগ করতে হবে। পর্ষদ-অনুমোদিত এআই নীতি তৈরি করতে হবে এবং শাসন-সংক্রান্ত আলাদা কমিটি গড়তে হবে।

নেটওয়ার্ক পরিচালনা, গ্রাহক-পরিষেবা, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং আগাম রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এআইয়ের ভুল সিদ্ধান্ত, পক্ষপাত, নিরাপত্তার ফাঁক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি যোগাযোগ পরিষেবায় প্রভাব ফেলতে পারে। টেলিকম পরিকাঠামো জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই এই ক্ষেত্রে কোনও বিপর্যয় বা অপব্যবহারের প্রভাব সাধারণ ব্যবহারকারীর গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত এআই ব্যবস্থার তালিকা রাখা, নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে যাচাই এবং গুরুতর ঘটনার নথি সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় এআই-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। গুরুতর ত্রুটি বা ক্ষতির ঘটনা ঘটলে নিয়ন্ত্রককে জানানোর প্রস্তাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘ক্রিটিক্যাল’ ও ‘হাই-সিভিয়ারিটি’ মানের এআই-সংক্রান্ত ঘটনা ট্রাইকে নির্দিষ্ট ছকে জানাতে হবে।

খসড়া, চূড়ান্ত নিয়ম নয়

ট্রাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের ‘ইন্ডিয়া এআই গভর্নেন্স গাইডলাইনস’কে টেলিকম ক্ষেত্রে সুসংগতভাবে প্রয়োগ করাই এই খসড়ার লক্ষ্য। মতামত ও পর্যালোচনার পরে নির্দেশিকায় বদল হতে পারে। তাই প্রস্তাবগুলিকে ইতিমধ্যেই চালু হওয়া বিধি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।