লন্ডন:
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’ (Ballon d'Or) জিতে নিলেন ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক তথা তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেন (Harry Kane)। ৩৩ বছর বয়সে ইতিহাসের দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি অর্জনের পর থেকেই গোটা ফুটবল বিশ্বে বইছে প্রশংসার জোয়ার। তবে তাঁর এই মুকুট অর্জনের পাশাপাশি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গিনী ও স্ত্রী কেটি গুডল্যান্ড (Katie Goodland)। স্কুলজীবনের বন্ধু থেকে শুরু করে বিশ্বসেরার মঞ্চ পর্যন্ত হ্যারির প্রতিটি লড়াইয়ে ছায়ার মতো পাশে থাকার গল্প এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।
হ্যারি কেন ও কেটি গুডল্যান্ডের ভালোবাসার গল্পটি রূপকথার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কোনো বিলাসবহুল নাইটক্লাব বা পার্টিতে নয়, তাঁদের এই প্রেমের সূচনা হয়েছিল পূর্ব লন্ডনের এক সাধারণ স্কুল থেকে। দুজনেই পড়াশোনা করতেন চিংফোর্ড ফাউন্ডেশন স্কুলে। ২০০৫ সালে লন্ডনের গ্রিনউইচে কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যামের ফুটবল একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিল এগারো বছর বয়সি দুই শিশু—হ্যারি ও কেটি। বেকহ্যামের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তোলা সেই শৈশবের একটি মিষ্টি ছবি আজ ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে এই ছোট্ট ছেলেটিই একদিন বড় হয়ে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেবে এবং কেটি হয়ে উঠবেন তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা।
ফুটবলার হিসেবে হ্যারি কেনের পথচলাটা কখনোই মসৃণ ছিল না। টটেনহ্যাম হটস্পারের মূল দলে সহজে সুযোগ না পেয়ে তাঁকে একের পর এক নিচু সারির ক্লাবে লোনে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। কেরিয়ারের শুরুর সেই কঠিন ও অনিশ্চিত দিনগুলিতে মানসিকভাবে হ্যারিকে সবচেয়ে বেশি শক্তি জুগিয়েছেন কেটি। বহু সাক্ষাৎকারে হ্যারি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি যখন ফুটবল দুনিয়ায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেননি, সেই কঠিন সংগ্রাম ও প্রথম গোল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে ওঠার গোটা যাত্রার সাক্ষী ছিলেন কেটি। মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি নেওয়ার পর কেটি পেশাদার ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়েন। লাইমলাইট থেকে কিছুটা দূরে থাকা এই দম্পতি তাঁদের চার সন্তানকে নিয়ে সুখের সংসার গুছিয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময়ে দাঁড়িয়ে হ্যারি কেনের এই ব্যালন ডি’অর জয় যেন তাঁদের দীর্ঘ দুই দশকের প্রেমের এক দারুণ ও পূর্ণাঙ্গ পরিণতি।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।